দুর্নীতিবাজদের জন্য চলতি বছর হবে আতঙ্কের -দুদক চেয়ারম্যান

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের ধরতে জোরদার করা হয়েছে ফাঁদ পাতা কার্যক্রম। ফৌজদারি মামলার কোনো আসামিকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাই চলতি বছরটি দুর্নীতিবাজদের জন্য হবে আতঙ্কের। গতকাল সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বছর দুদকের গণশুনানি বাড়ানো হয়েছে। এর জন্য আলাদা সেলও খোলা হবে। প্রতি মাসে জেলা ও উপজেলায় তিনটি করে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর তিন দিনের মধ্যে করা হবে ফলোআপ শুনানি। সেখানেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই দুর্নীতির সব ঘাট বন্ধ করতে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, এয়ারপোর্ট ও ল্যান্ডপোর্টগুলোতে জানিয়ে দিয়েছি অভিযুক্তরা যাতে কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারে। স্পেশাল ব্রাঞ্চকেও চিঠি দিয়েছি। এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি আদালতের আওতায় না থেকে আমাদের আওতায়ও থাকে, তাহলে দুদককে জানিয়ে তাকে বিদেশ যেতে হবে।

স্কুলে ভর্তিবাণিজ্য নিয়ে তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে ভর্তির সময় বেশ কিছু দুর্নীতি হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু স্কুলের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছেÑ ভর্তির সময় কত টাকা নেওয়ার কথা ছিল, আর কত নেওয়া হয়; কতজন শিক্ষার্থী ভর্তির কথা ছিল, কত করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ প্রসঙ্গে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সঠিক তদন্তের জন্য ব্যাংকের ২ হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪১ টাকা অর্থ আত্মসাতের ৫৬টি মামলার চার্জশিট দিতে সময় লাগছে। নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন যুক্ত না হয় বা কোনো অপরাধী পার না পায় সেদিকেও নজর রেখে তদন্ত করতে হচ্ছে। মামলার পর বেসিক ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে ৩শ ৪২ কোটি টাকা।

এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করবেন জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতির কারণে এসডিজি অর্জনে সরকারকে পিছিয়ে পড়তে হয়। এজন্য দুদকের পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে হবে।

দুদকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে অভিযোগ ছিল ১০ হাজার ৪১৫টি। এর মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় ১ হাজার ২৪০টি। এ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে ১৫৬টি। ২০১৬ সালে দুদকের কাছে অভিযোগ ছিল ১২ হাজার ৫৬৮টি। এর মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় ১ হাজার ৫৪৩টি। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয় ৫৪৩টি। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ফাঁদ মামলার সংখ্যা ছিল চারটি, সেখানে ২০১৬ সালে হয়েছে ১৩টি। ২০১৫ সালে সাজার হার ছিল ৩৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশে। এতেই বোঝা যায় দুদক এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ ও দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে