sara

চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক মেরামতে নয়ছয়

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

০১ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নগরীর পাকা সড়কগুলোয় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ নিয়মিত সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে এসব গর্ত ভরাটের কাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, সঠিক নিয়ম না মেনে গরম বিটুমিন পানিতে দিয়ে তা রোলারের মাধ্যমে সমান করে দায় সারছে প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্ট লোকজন। পথচারীরা এটিকে সিটি করপোরেশনের ‘নয়ছয়’ কারবার বলে মনে করছেন।

সরেজমিন নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ে এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নগরীতে একপশলা বৃষ্টি হয়। তাতে সড়কের কোনো কোনো জায়গায় পানি জমে যায়। দেওয়ানহাট মোড়ে কয়েক ইঞ্চি পানিতেই গরম বিটুমিন ঢেলে দেন সংস্কারকাজে নিয়োজিত লোকজন। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে সেখানে দেখা যায়নি।

ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, আমি এখন ছুটিতে কক্সবাজার এসেছি। বিষয়টি আমি খবর নিয়েছি। আসলে সকালে যখন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয় তখন বৃষ্টি ছিল না। কিন্তু বিটুমিনের মিশ্রণ আনার পর বৃষ্টি হয়। তখন হয়তো পানির ওপর দেওয়ার বিকল্পও ছিল না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সড়কের খানাখন্দ মেরামতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ইটের টুকরো কিংবা বিটুমিন ব্যবহার করে। ইটের টুকরো সড়কে পানি থাকলে দেওয়া যায়। কিন্তু বিটুমিন ব্যবহার করতে হয় রাস্তা শুকনো থাকা অবস্থায়। কিন্তু নগরীর আগ্রাবাদ শেখ মুজিব সড়ক, এক্সেস রোড, পোর্ট কানেকটিং রোডসহ আশপাশের সড়ক মেরামতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বিটুমিন দিয়ে রাস্তা মেরামত করছে পানি থাকা অবস্থায়ই। চসিকের দায়িত্বশীলরা বলছেন, হঠাৎ বৃষ্টির কারণে যেখানে বিটুমিন দেওয়ার কথা, সেখানে পানি উঠে গেছে। তাই শ্রমিকরা বিটুমিন মেশানো পাথরকুচি গর্ত ভরাটের কাজে ব্যবহার করছে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সড়ক কাটার কারণে বেহাল হয়ে পড়া সড়কে জোড়াতালির কাজ করছে চসিক। সাগরিকায় স্থাপিত চসিকের নিজস্ব অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট থেকে বিটুমিন ও পাথরকুচি মেশানো কার্পেটিং সামগ্রী আনা হয় এ কাজে। নির্ধারিত তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দিতে হয় এসব কার্পেটিং সামগ্রী। আর বিটুমিনের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে পানি। চসিক রাস্তায় পানি থাকা অবস্থায় বিটুমিন মেশানো পাথর ব্যবহার করছে।

আগ্রাবাদ শেখ মুজিব সড়কের বাদামতল, এক্সেস রোড, নিমতলা পোর্ট কানেকটিং রোড, ফিরিঙ্গি বাজারের মেরিনার্স রোড, কাপাসগোলা রোড, সিডিএ অ্যাভিনিউর বিভিন্ন স্থানে গর্ত দেখা গেছে। এর মধ্যে এক্সেস রোড বেশ কিছু দিন কোমর সমান পানিতে তলিয়ে ছিল। সিডিএ অ্যাভিনিউয়ে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলায় সড়কটির বেহাল দশা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ওয়াসা, পিডিবি, টিঅ্যান্ডটি ও বাখরাবাদ গ্যাসের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কের বেহাল দশা হয়েছে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নগরীতে অ্যাসফল্ট (পিচঢালা) ১১৪০টি সড়ক আছে, যার দৈর্ঘ্য ৬২০ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৭ দশমিক ২০ মিটার। কংক্রিট সড়ক আছে ১১০৯টি, যার দৈর্ঘ্য ২৪৯ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩ দশমিক ৫৫ মিটার। ব্রিকসলিং সড়ক আছে ২৩৫টি, যার দৈর্ঘ্য ৫৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ৩ দশমিক ৫০ মিটার। কাঁচা সড়ক আছে ২৪৫টি, যার দৈর্ঘ্য ৪৮ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার। তবে এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত, জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় কী পরিমাণ সড়ক নষ্ট হয়েছে তার হিসাব এখনো চসিকের কাছে নেই। চসিকের কাছে কত শতাংশ সড়ক নষ্টের তথ্য না থাকলেও দৃশ্যমান যেসব সড়ক নষ্ট হয়েছে সেগুলোয় বিটুমিন মেশানো পাথরকুচি ও ইটের টুকরো দিয়ে মেরামতের ব্যবস্থা করছে, যা কিছু দিনের মধ্যে আবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন নগরবিদরা।

চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, অ্যাসফল্ট প্ল্যান্ট থেকে বিটুমিন মেশানো পাথরকুচি আনার পর সেটি ব্যবহার করা ছাড়া উপায় থাকে না। এ ক্ষেত্রে হয়তো হঠাৎ বৃষ্টির কারণে যেখানে বিটুমিন দেওয়ার কথা সেখানে পানি উঠে গেছে। তাই শ্রমিকরা বিটুমিন মেশানো পাথরকুচি ফেলে না দিয়ে গর্ত ভরাটের কাজে ব্যবহার করছে। এমনিতে রাস্তার খানাখন্দ ভরাটের কাজে আমরা ইটের খোয়া দিয়ে থাকি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে