খাগড়াছড়ির ৩ ছাত্রাবাস ছয় বছরেও চালু হয়নি

  রফিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি ও পানছড়ি উপজেলার তিনটি ছাত্রাবাস গত ছয় বছরেও চালু হয়নি। এ জন্য কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ছাত্রাবাসগুলো চালু না হওয়ায় সেগুলোতে থাকতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, নির্মাণের ছয় বছর অতিবাহিত হলেও পরিচালনার জন্য ওই ছাত্রাবাসগুলোয় জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এলজিইডি সূত্র জানায়, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দিতে সরকার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে ছাত্রাবাস তিনটি নির্মাণ করে। বর্তমানে পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ন্যস্ত হয়েছে। ছাত্রাবাসগুলো চালু করতে জেলা পরিষদে কয়েকবার চিঠি দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০১১ সালে এলজিইডি প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের (পিডিইপি-২) আওতায় প্রতিটি ২ কোটি ২৪ লাখ করে মোট ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলাবিশিষ্ট ওই ৩টি ছাত্রাবাস নির্মাণ করে। অভিন্ন নকশার ছাত্রাবাসগুলো চালু না হওয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে ভবনে রাখা চেয়ার-টেবিল। অনেকগুলো কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। লক্ষ্মীছড়ির ছাত্রাবাসটি গত ৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত। ভবনসহ আসবাবপত্র জীর্ণ হয়ে গেছে। লক্ষ্মীছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার চাকমা পরিবার নিয়ে এই ছাত্রাবাসে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা থাকে না বলে আমি পরিবার নিয়ে এখানে থাকি। শুধু পরীক্ষার সময় দূর-দূরান্তের ছাত্ররা এখানে থেকে পরীক্ষা দিয়ে আবার বাড়ি চলে যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিনও ২০১৫ সাল থেকে এই ছাত্রাবাসের একটি কক্ষ দখল করে এখানে বসবাস করছেন। হোস্টেলে জনবল ৬ জন থাকার কথা। কিন্তু একজনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রধান শিক্ষকরা জানান, দুর্গম এলাকার অনেক শিক্ষার্থী নিজ বাড়ি থেকে দূরত্বের কারণে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে পারে না। অনেকের মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। আবার অনেকে উপজেলা এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে। ছাত্রাবাসগুলো চালু হলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হতো।

পানছড়ি সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. ইউনুছ ও আরমান হোসেন জানায়, তাদের অনেক বন্ধু উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পড়াশোনা করছে। হোস্টেলটি চালু হলে তাদের অনেক সুবিধা হতো।

প্রতিটি ছাত্রাবাসে একজন তত্ত্বাবধায়কসহ ৬ জন লোকবল থাকার কথা। প্রতিটি ছাত্রাবাসে ৪০ ছাত্র ও ৪০ ছাত্রীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

এলজিইডির খাগড়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, ২০১১ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ছাত্রাবাসগুলো এখনো বুঝে নেয়নি। অযতœ ও ব্যবহার না হওয়ায় ভবনগুলো পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। অনেক আসবাবপত্র প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। দেয়ালের রংও খসে পড়ছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, জনবল নিয়োগ দিতে না পারায় ছাত্রাবাসগুলো চালু করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুই মাস আগেও মন্ত্রণালয়ের টিম ছাত্রাবাসগুলো পরিদর্শন করে গেছে। তবে জনবল নিয়োগে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে