কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

ভুয়া সনদে একাধিক অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ দুদকে

  ত্রিশাল প্রতিনিধি

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুয়া সনদের মাধ্যমে একাধিক অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট ও দুর্নীতি দমন কশিন (দুদক) বরাবরে অভিযোগ করেছেন প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদনকারী এক ভুক্তভোগী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ চালু হওয়ার পর একটি জাতীয় দৈনিকে একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শর্তানুযায়ী সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য বাধ্যতামূলক তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসহ বিএফ স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়। প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পৃথক দুটি পদে আবেদনকারী ভুক্তভোগী প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক বিজ্ঞাপনের সব শর্ত পূরণ করে বাছাই বোর্ডে অংশ নিলেও বিজ্ঞপ্তির অন্যতম শর্ত তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জাল সনদে সাফিন ওমরকে মনোনীত করে নিয়োগ বোর্ড। এ ঘটনায় জাল সনদের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট করেন হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক। অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসরে যান সাফিন ওমর।

পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও আগের মতো তিন বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দুলাল চন্দ্র গাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন খাত থেকে তিনি বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরে হাইকোর্টের রিট পিটিশন মামলায় চারুকলা বিভাগের চাকরি থেকে তিনিও পদত্যাগ করেন।

চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএ স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের আবেদন করতে বলা হলেও ছাপচিত্র বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান বিএফএ পাস ডিগ্রি পাসের শিক্ষার্থী নগরবাসী বর্মন। যার ইন্টারভিউ কার্ড পাওয়ারই কথা নয়। অথচ অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া নগরবাসী বর্মন বর্তমানে চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তৎকালীন সময়ে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ বাছাই কমিটির ওই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন তৎকালীন উপাচার্য ড. সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন, ট্রেজারার ড. মো. আইনুল ইসলাম, চারুকলা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম শামছুদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগের অধ্যাপক, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রফিকুন নবী এবং অধ্যাপক নিসার হোসেন।

নিয়োগপত্রে কপিতে দেখা যায়, নিয়োগ বোর্ড কম্পিউটার কম্পোজের মাধ্যমে শুধু সাফিন উমরকে নিয়োগ প্রদান করলেও একই কাগজে হাতে লেখা ঘষামাজা দিয়ে দুলাল চন্দ্র গাইনের নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুরো নিয়োগটি হাতে লেখা কাগজে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

অভিযোগকারী হোসাইন মোহাম্মদ ফারুক বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদে থাকার কোনো এখতিয়ার নেই।

চারকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নগরবাসী বর্মন বলেন, আমার যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করেছি। কর্তৃপক্ষ সব বিষয় বিবেচনা করেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে