লোকসানের মুখে বিএসএল

সিপিসি সম্মেলনের ভাড়া মওকুফে আপত্তি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লোকসানের মুখে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ সার্ভিসেস কোম্পানি লিমেটেড (বিএসএল)। তাই ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের (সিপিসি) জন্য নেওয়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) ভাড়া মওকুফে আপারগতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উল্টো ৯৫ লাখ ২৭ হাজার ১৮৬ টাকা পরিশোধের জন্য সম্প্রতি নির্দেশনা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর (অব) লুৎফর রহমান। বিএসএল এই সম্মেলন কেন্দ্রটি গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে লিজ নিয়ে পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, গেল ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত হওয়া এই সম্মেলনের জন্য ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলে প্রস্তুতি পর্ব। আর এ সময়ের জন্য ভাড়া মওকুফের ব্যাপারে আবেদন করা হয় বিএসএলের কাছে। কিন্তু ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ভাড়ার টাকা মওকুফে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে। এর যুক্তি হিসেবে বলা হয়Ñ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে তিন দিনের ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লোকসানের কারণে বাকি টাকা মওকুফের সুযোগ নেই। ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ৪৬০ কোটি লিজমানির শর্তে পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ নিয়েছে বিএসএল। এর মধ্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জন্য ৪৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের জন্য বছরে ২৫ দিন বিনা ভাড়ায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অথবা সংস্থাকে বরাদ্দ দিতে পারে পূর্ত মন্ত্রণালয়। আবার চুক্তির শর্তানুযায়ী গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও করতে হয় বিএসএলকে। তাই সম্মেলন কেন্দ্রটি লিজ নেওয়ার পর ক্রমাগত লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে লেখা চিঠিতে আরও বলা হয়, বিএসএলের নিজস্ব হোটেলটি বন্ধ থাকায় রাজস্ব প্রাপ্তির সব উৎসই বন্ধ রয়েছে। এ বাস্তবতায় বিএসএল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাড়া ও বিআইসিসির অপারেটিং ব্যয় বহনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করতে পারছে না। শুধু তাই নয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে বিমান মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত রাজস্বও অর্জন করতে পারছে না।

এদিকে সিপিসির এ অনুষ্ঠানে হসপিটালিটি সেবার জন্য বিএসএলের প্রায় ৩৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ২৮ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরের জন্য ৯৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এটি মওকুফ করতে অনুরোধ করা হলেও বাস্তবতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর (অব) লুৎফর রহমান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে