গাজীপুর ও কুষ্টিয়ায় তিনজনের ফাঁসি

  গাজীপুর ও কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরে ভাগনি হত্যার দায়ে মামার ফাঁসি ও দুজনকে যাবজ্জীবন এবং কুষ্টিয়ায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে গতকাল বুধবার দুজনকে ফাঁসি ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামে নাজমীন (৭) হত্যা মামলায় মামার ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় অপর দুজনকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হকের আদালতে এ রায় দেন। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মামা মো. রিপন মিয়া (৩৩) শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের হাসমত আলী ওরফে হাশেমের ছেলে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেনÑ বগুড়ার ভাটকান্দি গ্রামের মো. রহিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২০) ও শেরপুরের দীঘিরপাড় গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে মোজাফ্ফর (১৯)।

গাজীপুর আদালতের পিপি হারিছউদ্দিন আহম্মদ জানান, ২০ বছর আগে শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের হাসমত আলীর মেয়ে আছমা বেগমের সঙ্গে আক্কাছ আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের নাসরিন ও নাজমীন নামে দুই কন্যাসন্তান হয়। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে আছমা বেগম তার দুই কন্যা নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। গত ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু নাজমীনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আছমা বেগম ওই দিন শ্রীপুর থানায় তিনজনের নামসহ অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এদিকে একই দিন দুপুরে কুষ্টিয়ায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিপুকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুজনকে ফাঁসি ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলার আরও ১৮ আসামির মধ্যে বাকি আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এবিএম মাহমুদুল হক এ রায় দেন।

মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন বাপ্পী ও সুমন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে বাপ্পিসহ নয় আসামি উপস্থিত ছিলেন। সুমনসহ বাকি আসামিরা পলাতক।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কয়েকজন বন্ধু লিপুকে অপহরণ করেন। পরে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লিপুর বাবা ওয়াহিদুল ইসলামের কাছে তিন কোটি টাকা দাবি করেন। লিপুর বাবা বাদী হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিহতের বন্ধু ইমন, শুভ ও রাতুলকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, তারা লিপুকে অপহরণ করে হত্যা করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে