জোর যার মুল্লুক তার

  রেজাউল রেজা

১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:৩৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রুটিপূর্ণ পয়ঃনিষ্কাশন, উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনার স্তূপ এবং যেখানে-সেখানে অবৈধ স্থাপনা- সব মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের চালচিত্রটা এমনই। অথচ প্রতিটি এলাকায় রয়েছে পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ময়লার ভ্যান। আউটার সার্কুলার রোড, খিলগাঁও বাগিচা, উত্তর শাহজাহানপুর, দক্ষিণ শাহজাহানপুর, দক্ষিণ খিলগাঁও, মোমেনবাগ, শহীদবাগ ও শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি নিয়ে গঠিত ওয়ার্ডটি।

মূলত ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি অনুসরণ করে এখানে জায়গা দখল করে নির্মাণ হয়েছে অবৈধ বস্তিঘর, দোকানপাট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। রেললাইন এলাকা, খিলগাঁও রেলগেট বাজার, শাহজাহানপুর খাল (ঝিল) ও খালের পার্শ্ববর্তী এলাকা, শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি ও রেলওয়ে মৈত্রী সংঘ মাঠসহ ওয়ার্ডের অনেক এলাকায় এসব গড়ে উঠেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় কোথাও আবার বাসাবাড়ির গা ঘেঁষেই ময়লার স্তূপ।

রেলওয়ে কলোনিসহ আউটার সার্কুলার রোড ও শহীদবাগের ওলিগলির নালা ও ম্যানহোলের ঢাকনা উপচে স্যুয়ারেজের নোংরা পানিতে সয়লাব রাস্তা। তার ওপর ইট রেখেই এলাকাবাসীর ব্যস্ত যাতায়াত। রেলওয়ে কলোনির প্রায় প্রতিটা ভবনের নিচতলাতেই জমে আছে নোংরা পানি। আর একটু বৃষ্টি হলে এই অবস্থা হয় আরও ভয়াবহ। রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকতা-কর্মচারীর অর্থ লালসার কারণেই এ অবস্থা। কারণ এখানকার সরকারি বিল্ডিংগুলোর পাশেই তারা ব্যাঙের ছাতার মতো ছোট ছোট অসংখ্য বস্তিঘর তুলেছেন। ভাড়া দিয়ে সেখানে দিব্যি বসবাস করছেন বাইরের লোকজন।

দখল হওয়ার পথে ওয়ার্ডের একমাত্র শাহজাহানপুর ঝিলটিও। যে যার মতো এখানে এসে ময়লা-আবর্জনা ফেলে। এমনকি এলাকার ময়লাও ভ্যানে করে এনে ফেলা হয়। তাই মৃতপ্রায় খালে পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুল হকের মতে এটা এখন ‘ময়লার ঝিল’। বৃষ্টির সময় উল্টো খালের পানি উপচে এলাকায় ঢোকে, বহুদিন ধরে যার দুর্ভোগ বয়ে বেড়াচ্ছে ঝিলপাড়ের বাসিন্দারা। নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ নেই।

এই ওয়ার্ডের অনেক এলাকাতে আবার পানি ও গ্যাস নিয়েও ভোগান্তি। দুপুরের সময় চলে যায় গ্যাস। আর ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ। আবার যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপের কারণে মশার উপদ্রপটাও এই ওয়ার্ডে তুলনামূলক বেশি। সঙ্গে মাদকসেবীদের উপদ্রপও কম নয়। রেলওয়ে মৈত্রী সংঘ মাঠকে ঘিরেই মাদকের কারবার। মাঠের তিন পাশেই রয়েছে ভাঙাড়ি দোকানসহ অবৈধ দোকানপাট। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বাড়ে মাদকসেবীদের আনাগোনা। রেললাইন এলাকায় তো দিনের আলোতেই চলে মাদকসেবন ও কেনাবেচা। তবে মাদকসেবনসহ চুরি-ছিনতাই থামাতে সিটি কপোরেশনের পক্ষ থেকে এসব এলাকায় ৫৮৪টি এলইডি বাতি লাগানোর কথা। কিন্তু সেই কথাও রাখা হয়নি। কেবল প্রধান সড়ক ও কয়েকটি রাস্তাতেই এলইডি বাতির ঝলক।

এদিকে প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে অন্যতম বড় অবৈধ স্থাপনা ঝিলপাড় মাঠ মার্কেট। সরকারি জমির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকেই চলছে মার্কেটটি। চৌকি আর বাঁশ দিয়ে নির্মাণ হয়েছে অর্ধশতাধিক দোকান। পাশাপাশি খোলা জায়গাগুলোও অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীসহ খাবার দোকানিদের কাছে। বিশাল এই মার্কেট থেকে প্রতিদিনই মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলা হয়। ইব্রাহীম নামের এক ব্যক্তি চাঁদা তোলেন বলে সূত্রে জানা যায়। আর এর ভাগ চলে যায় স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে প্রসাশনিক কর্মকর্তার পকেটে।

নির্ধারিত সীমা পার করে অবৈধ দোকানপাটে খিলগাঁও রেলগেট বাজার চলে এসেছে প্রধান সড়কে। ফলে পুরো খিলগাঁও বাজার এলাকা, রেলগেটসহ আউটার সার্কুলার রোডে দিনের বেশিরভাগ সময়েই লেগে থাকে অসহনীয় যানজট। আর আমতলা, রেলওয়ে কলোনি ও শহীদবাগের ভেতরে যানজট তো এলাকাবাসীর নিত্যসঙ্গী।

পুরনো হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর এই ওয়ার্ডটিতে ভোটার সংখ্যা ৪২ হাজার ৮০০। দুটি প্রাথমিক ও একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ কিন্ডারগার্ডেন, কলেজ, মাদ্রাসা মিলিয়ে ২০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে। সরকারি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে দুটি, যেগুলো রেলওয়ে অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত। মসজিদ আছে ১৭টি। একটি সরকারি হাসপাতালসহ সিটি করপোরেশনের অধীনে আরবান হেলথ কেয়ারও রয়েছে। এর অধীনেই একটি ‘ডিসিসি নগর মাতৃসদন’ পরিচালিত হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে