নানা সংকটে জবি মেডিক্যাল সেন্টার

২০ হাজার শিক্ষার্থীর এক চিকিৎসক

  জবি প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) চিকিৎসাসেবার জন্য রয়েছে একটি মেডিক্যাল সেন্টার। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সেখানে একাই চিকিৎসা দেন মাত্র একজন ডাক্তার। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই; মাথাব্যথা, জ্বর, পেট খারাপের ওষুধ ছাড়া এ মেডিক্যালে কিছুই মেলে না। পাশে থাকা বাথরুমের দুর্গন্ধ যেন ফ্রি! তাই পারতপক্ষে কেউ সেখানে যেতে চান না। আর এ কারণেই তিন রুমের মেডিক্যাল সেন্টারটিকে ছোট করে এক রুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নিচতলায় বাম দিকে প্রকৌশল দপ্তরের বিপরীতে একটি রুমে চলছে জবি মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম। কক্ষের ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি ওজন মাপার মেশিন। চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে এটিই অন্যতম! আর রয়েছে প্রেসার বা রক্তচাপ মাপার দুটি যন্ত্র (স্ফিগমোম্যানোমিটার)। সেখানে বসে আছেন সিনিয়র অফিসার ডা. মিতা শাবনাম। কিন্তু রোগী না থাকায় ব্যস্ততা নেই। পাশের বাথরুমের দুর্গন্ধে অবশ্য টেকাই দায়। তার পরও দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বসে থেকে কাউকেই চিকিৎসা নিতে আসতে দেখা যায়নি। এতেই বোঝা যায় মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা বিমুখ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগে মেডিক্যালের জন্য তিনটি কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে একটিতে চলে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম। অন্য কক্ষে অবশ্য একটি বেড ও কয়েকটি চেয়ার এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। সেখানে প্রচুর ধুলোবালি আর মাকড়সার জালই বলে দিচ্ছে এটির ব্যবহার হয় না।

মেডিক্যাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। মাঝেমধ্যে শিক্ষকরাও আসেন প্রেসার মাপাতে। চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসেবে আছে প্রেসার মাপার দুটি ও ওজন মাপার একটি যন্ত্র, রোগীদের জন্য দুটি বেড, একটি অ্যাম্বুলেন্স। এখানে কেবল প্রাথমিক চিকিৎসাই মেলে। তাই প্রয়োজনীয় স্যালাইন, নাপা, হিস্টাসিনসহ ১৬ পদের ওষুধ রয়েছে, বাকিটা প্রেসক্রিপশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অভিযোগ আছে যে, ওষুধ থাকার পরও শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় না। কালেভদ্রে চিকিৎসা নিতে গেলেও ধরিয়ে দেওয়া হয় প্রেসক্রিপশন। পর্যাপ্ত ওষুধ আর চিকিৎসক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সুমনা, মিটফোর্ড ও ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সেবা নিতে যান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার মান না থাকা, মেডিক্যাল কক্ষের পাশে থাকা বাথরুমের দুর্গন্ধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকা, মাত্র একজন চিকিৎসক, পরিধি কমিয়ে আনা, কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মেডিক্যাল সেন্টারটি। যত দিন যাচ্ছে, সমস্যা ততই বাড়ছে।

এ বিষয়ে মেডিক্যাল সেন্টারের দায়িত্বে থাকা ডা. মিতা শাবনাম আমাদের সময়কে বলেন, এখানে সাধ্যমতো প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। তবে আমাদের প্রধান সমস্যা লোকবল সংকট। লোকবল বাড়ালেই আর কোনো অভিযোগ থাকবে না। এ ছাড়াও তিনি রোগী থাকার রুমটি দ্রুত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, মেডিক্যাল নিয়ে এখন আমরা কিছু ভাবছি না। কেরানীগঞ্জে যখন নতুন ক্যাম্পাস নেওয়া হবে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক মেডিক্যাল নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে একজন চিকিৎসক আছেন, তবে কিছুদিনের মধ্যেই চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে