• অারও

ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

  সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানী আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল সরকারের ৪ বছর পূর্তি উদযাপন করল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি দেশব্যাপী আরও প্রচার-প্রসার এবং সরকারের ৪ বছরের উন্নয়ন ও সাফল্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফুটিয়ে তুলতেই বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের নৃত্য-গীতের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল দলছুট, চিরকুট, সোলস, ব্যান্ডশিল্পী জেমস এবং ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজ।

‘পিতার স্বপ্নে কন্যার আহ্বানে কোটি মানুষের মিছিল চলেছে মুক্তির অভিযানে’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো আয়োজনটি।

সুরের খেলা আর নাচের মুদ্রার অনন্য শৈল্পিকতায় সেই তথ্যচিত্রগুলোয় দৃশ্যমান হয়েছে বিগত ৪ বছরের পথচলায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নানা উন্নয়ন। শিল্পের নানা পরিবেশনার পাশাপাশি স্বদেশের উন্নয়নের চিত্রটাও দেখে দর্শক।

আর্মি স্টেডিয়ামে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন উল্টো পথে হেঁটেছে, বাংলার ইতিহাসের ভুল পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর চিত্রটি পাল্টে যায়। বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবাতাস বইতে শুরু করে। শুরু হয় উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় উজ্জ্বল আলোর অভিসারী হয়ে নতুন লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছেন তা আমরা ব্যাহত হতে দেব না।

সরকারের ৪ বছর পূর্তিতে এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সেই ভাষণটিও অনুষ্ঠানস্থলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়েই বিকাল ৪টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর পর তারা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগানিয়া গান ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। এর পর মঞ্চে অনিক বোস ও তার দল। ‘জ্বলে ওঠো বাংলাদেশ’ ও ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের’ গান দুটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায় নাচের দলটি। এর পর ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা, একটি গর্ব একটি বাংলাদেশ’ ও ‘চলো বাংলাদেশ’ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা। এই নাচটির পর দীপা খন্দকারের পরিচালনায় ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ গানের সঙ্গে সমবেত নাচ করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। নাচের পর অ্যাক্রোবেটিক শো নিয়ে মঞ্চে আসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দল। অ্যাক্রোবেটিকের অনন্য কৌশলে ‘চেয়ারসিটিং’ ও ‘নেকআয়রনবার’ শীর্ষক দুটি অ্যাক্রোবেটিক শো পরিবেশন করেন তারা। এ ছাড়া এমআর ওয়াসেকের নৃত্য পরিচালনায় ‘চলো এগিয়ে যাই’ ও ‘বুকের ভেতর আকাশ নিয়ে একটাই আছে দেশ,’ গানের দলীয় নৃত্য পরিবেশনের পর দীপা খন্দকারের পরিচালনায় ‘ওই উজ্জ্বল দিন’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন একাডেমির শিল্পীরা। নৃত্য শেষে সমীর বাউলের পরিচালনায় ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’ ও আমার এ ঘরখানায় কে বিরাজ করে ’ গান দুটি সমবেতভাবে গীত হয় শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের কণ্ঠে। এই আয়োজনে সমবেতভাবে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা আরও পরিবেশন করে ‘নাও ছাড়িয়া দে, ও পৃথিবী একবার এসে, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, যদি রাত পোহালে শোনা যেত, শোন একটি মুজিবুরের থেকে’ ও ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই’ ইত্যাদি।

শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসে ব্যান্ড দল দলছুট, চিরকুট, সোলস, ব্যান্ডশিল্পী জেমস। নিজেদের জনপ্রিয় গানগুলোর পরিবেশনায় আর্মি স্টেডিয়ামের সর্বত্র সুরের ধারা বইয়ে দেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, সুবীর নন্দী, মমতাজ ও শফি ম-ল। বিকাল ৪টায় শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠান।

ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু : ‘ভালো ছবি, ভালো দর্শক, সমৃদ্ধ সমাজ’ এ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশসহ ৬৪টি দেশের ২১৬টি চলচ্চিত্র নিয়ে শুরু হলো ষোড়শ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৮’। রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, রাশিয়ান কালচার সেন্টার ও স্টার সিনেপ্লেক্সে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো। গতকাল বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্র প্রতিমিন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা। বাংলাদেশের পাশাপাশি উৎসবে অংশগ্রহণকারী অন্য দেশগুলো হচ্ছেÑ আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ভুটান, বুলগেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, বোতসোয়ানা, কানাডা, চীন, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, মিশর, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, ঘানা, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইন্ডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ইটালি, জাপান, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, মাদাগাস্কার, মালেয়শিয়া, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, মায়ানমার, নেপাল, নরওয়ে, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রাশিয়া, সার্বিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, শ্রীলংকা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তাজাখস্থান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেইন, ইয়েমেন ও উজবেকিস্তান। এশিয়ান কম্পিটিশন বিভাগ, রেস্ট্রোস্পেক্টিভ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেনস ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, উইমেন ফিল্ম মেকার সেশনসহ শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট এ আটটি ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো। এ বছর এশিয়ান কম্পিটিশন বিভাগে ১৫টি চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা করবে। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য পুরস্কার হিসেবে থাকছে ১ লাখ টাকাসহ একটি ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রি, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক এবং শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের জন্যও রয়েছে পুরস্কার। উৎসবের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে উৎসব চলাকালীন গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিয়মিতভাবে মিট দ্য প্রেসের আয়োজন রয়েছে। যেখানে চলচ্চিত্রকার, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে