• অারও

মাগুরায় বড়রিয়ায় ঘোড়দৌড়ের মেলা

  মাগুরা প্রতিনিধি

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শতবর্ষী ও সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী বড়রিয়া ঘোড়দৌড়ের মেলা বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের সমাগমে মহম্মদপুরের বড়রিয়া এখন মুখরিত। প্রতিবছর ধনী-গরিব-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয় মেলা মাঠ।

খুলনা বিভাগের সর্ববৃহৎ এ মেলা প্রতিবছর বসে ২৮ পৌষ। মেলার নির্ধারিত দিন গত বৃহস্পতিবার হলেও মেলা বসেছে আরও দুদিন আগে থেকে। চলবে বাংলা এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত। ঘোড়দৌড় শেষে দুদিন নারীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে মেলাস্থল। ওই দুই দিনের মেলা ‘নারী মেলা’ হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেছে।

মেলা কমিটির সদস্য আজিজুর রহমান টুটুল জানান, এ মেলাকে ঘিরে প্রায় ৫০ গ্রামের মানুষ উৎসবে মেতে ওঠে। এ মেলায় মাছ-মাংস, মিষ্টি ও ফার্নিচারের দোকান ছাড়াও বসেছে বাঁশ, বেত ও মৃৎশিল্পীদের তৈরি নানা খেলনা ও প্রসাধনীর স্টল। প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে আয়োজিত মেলার মূল আকর্ষণ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, নাগরদোলা, পুতুল নাচ, জাদু ও খ্যাতনামা কমেডি শিল্পীদের উপস্থিতি। তবে শিশু-কিশোর, ছেলে-বুড়ো, নারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের একটাই উদ্দেশ্যÑ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করা।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘোড়া আনা হয়। প্রতিযোগিতায় জাংগালিয়া, চরপাড়া, বরুলিয়া, ধুমাইল, আউনড়াসহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আগত প্রায় ৩৬টি ঘোড়া অংশ নেয়। এসব ঘোড়ার রয়েছে নানা নাম, যেমনÑ বাহুবলি, চিতা, বাংলার নবাব ইত্যাদি। ঘোড়ার সওয়ার হিসেবে থাকে নানা বয়সের শিশুরা। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তীব্র শীতের বিকালে মিষ্টি রোদে অন্যরকম এক আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে লাখো দর্শক।

চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় উপজেলা সদরের রায়পাশার আবজাল আলীর ঘোড়া প্রথম, মাগুরার মিটুল মিয়ার ঘোড়া দ্বিতীয় ও নাওভাঙ্গার কাজী হাবিবারের ঘোড়া তৃতীয় হয়। মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

বড়রিয়া গ্রামের সানু সরদার নামের এক আমুদে ব্যক্তি এ মেলা শুরু করেন। প্রায় দুশ বছর আগে মাগুরা সদর উপজেলার বাহরবা গ্রামে প্রতিবছরের ২৮ পৌষ অনুষ্ঠিত হতো ঘোড়দৌড়ের মেলা। ওই মেলায় বড়রিয়া গ্রামের সানু সরদার তার ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জিতে নিতেন প্রথম পুরস্কারটি। এক বছর মেলা কমিটি জোরপূর্বক তার ঘোড়াকে পরাজিত করলে তিনি এর প্রতিবাদ করায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। এর পর থেকে নিজ গ্রামে ওই একই দিন ঘোড়দৌড় এবং মেলার আয়োজন করেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে