রাজধানীতে গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তি

  লুৎফর রহমান কাকন

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

জলি খানম। গৃহিণী। বাসা যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায়। বাসায় গ্যাস সংকটের কারণে তাদের পরিবারে রান্নাবান্না আর খাওয়াদাওয়ার নিয়ম বদলে গেছে। প্রায়ই হোটেল থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। জলি খানম বলেন, সকাল ৭টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত নিয়মিত গ্যাস থাকে না। খুব ভোরে উঠে রান্না করতে হয়। ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলেই সেদিনের খাবার বাইরে থেকে এনে খেতে হয়। বাধ্য হয়ে প্রেসারকুকার কিনে এনেছি।

রাজধানীর রামপুরা মিরবাগ এলাকায় থাকেন লতিফুর রহমান। পুঁজিবাজারের এই ব্যবসায়ী বলেন, অনেক দিন যাবৎ আমাদের এলাকায় নিয়মিতই গ্যাস থাকে না। কিন্তু গত চার-পাঁচদিন ধরে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মধুবাগ, মিরবাগ, রামপুরাসহ আশপাশের এলাকায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তিনি বলেন, আমাদের খাওয়াদাওয়ার কোনো ঠিক নেই। হোটেল থেকে খাবার এনে খেতে হয়। অথচ বাড়িওয়ালাকে ঠিকই মাস শেষে গ্যাস বিল দিতে হয়। লতিফুর রহমান বলেন, বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনতে হয়েছে। তাতেও সমস্যা। বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে। আয় না বাড়লেও আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। গ্যাসের অভাবে হোটেলের খাবার খাওয়ায় মাঝে মধ্যেই অসুখেও ভুগতে হয়।

একই অভিযোগ সুবর্ণা চাকলাদার পপির। পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর বাসিন্দা তিনি। পপি বলেন, আমাদের এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। যখন গ্যাস আসে, তখন প্রেশার এত কম থাকে যে, এক কেজি চালের ভাত রান্না করতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে।

গ্যাস নেই এমন অভিযোগ সারাবছরই থাকে গ্রাহকদের। তবে শীত এলে ভোগান্তি অনেক বেড়ে যায়। প্রতিবছরই শীতকাল এলে গ্যাস সংকটে ভুগতে হয় রাজধানীবাসীর। শুধু যাত্রাবাড়ী, মিরবাগ বা পাটুয়াটুলী নয়, রাজধানীসহ তিতাসের আওতাভুক্ত অনেক এলাকাতেই গ্যাস সংকট চরমে। মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বাড়ছে ইলেকট্রিক চুলা বিক্রির পরিমাণ। অনেকেই গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। রামপুরা এলাকার ‘পিহাম’ ইলেকট্রনিক্সের স্বত্ব¡াধিকারী মো. নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, গত তিন-চারদিনে অর্ধশতাধিক ইলেকট্রিক চুলা বিক্রি করেছেন তিনি। বলেন, আরও অনেক চুলার অর্ডার আছে। কিন্তু দোকানে চুলা শেষ হয়ে গেছে।

শুধু ইলেকট্রিক চুলা নয়, রাজধানীর হোটেলগুলোতেও বিক্রি বেড়েছে। হোটেলগুলোতেও গ্যাস সংকট থাকায় বোতলজাত গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে খাবারের দামও বাড়তি রাখা হচ্ছে।

কেন এই সংকট? বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলার) পরিচালক (অপারেশন) মো. জামিল আহমেদ বলেন, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য আছে। তিতাসের আওতাধীন এলাকায় গ্যাসের চাহিদা যতটা, ততটা সরবরাহ নেই। এই সংকট শিগগির সমাধানের উপায় নেই বলে জানান তিনি।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় চাহিদা দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু এখন গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৭শ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট রয়েছে। এ ছাড়া শীতের কারণে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। মানুষ পানি গরম করাসহ নানা কারণে শীতকালে বেশি গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। হিসাব অনুযায়ী, শীতকালে গ্যাসের ব্যবহার ২০ শতাংশ বেশি হয়। ফলে একদিকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম, অন্যদিকে গ্যাসের ব্যবহার বেশি হওয়ায় সংকট দেখা দেয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে