ফুলে ফুলে স্বপ্নগাথা

  আশরাফুল আলম লিটন, মানিকগঞ্জ

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুল চাষ করে ভাগ্যবদল করেছেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার শত শত ফুলচাষি। বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি তারা বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিয়েছেন। উপজেলার জয়মন্টপ, ধল্লা, দশআনি, বাস্তা, খাসেরচর, ফোর্ডনগর, বাইমাইল, জামালপুর, চাড়াভাঙ্গা, কালিয়াকৈরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ফুল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ওইসব রঙিন ফুলে গাঁথা রয়েছে তাদের জীবনের প্রতিটি স্বপ্ন। স্থানীয় ফুল দখল করেছে শাহবাগের বাজার।

সিঙ্গাইরের জমি ফুল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। অল্প সময় আর কম খরচের কারণে সিঙ্গাইরে দিন দিন ফুল চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের ফুলচাষি আক্কাছ আলী জানান, ধলেশ্বরী নদী দ্বারা প্রবাহিত হওয়ায় গ্রামের চারপাশ শুধু বালু আর বালু। যে কারণে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও জানান, ২০০৩ সালে মনের খেয়ালে বাড়ির আঙিনার ৫ শতক জমিতে তিনি ফুল চাষ করেন। প্রথমবার ভালো লাভ পাওয়ায় পরের বছর আরও ৪ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেন। এখন ফুল চাষ করেই তার সংসার চলছে।

আক্কাছের স্ত্রী ফুলবানু জানান, এক সময় স্বামী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্ট করে সংসার চলত। স্বামীর স্বল্প আয়ে কোনোরকম দিনপাত করেছি। ঘরবাড়ি পাকা করে এখন আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। শুধু তাই নয়, আমাদের ফুলবাগানে এখন ২০-২৫ জন শ্রমিক কাজ করে তাদের সংসার চালাচ্ছেন। জয়মন্টপ গ্রামের কৃষক আবদুল আলী জানান, আগে কৃষিকাজ করতাম। কিন্তু লাভ কম হতো। এক শতাংশ জমিতে ধান হতো ১৫ থেকে ২০ মণ। খরচ পড়ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ধানের দর ভালো না হলে লোকসানও হতো। কিন্তু ফুল চাষে মাত্র একবার বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু এক থেকে দেড় বছরের ভেতর বিনিয়োগের টাকা উঠে আসে। এর পরের কয়েক বছর শুধু লাভ।

বাস্তা গ্রামের চান মিয়া বলেন, প্রথমে অল্প পরিমাণ জমিতে গোলাপ, গাঁদা, জিপসি, ক্যান্ডেলিনা, গ্যালোডিওলাসসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করেছিলাম। অন্যের ২২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বৃহৎ পরিসরে ফুলের বাগান করেছি। বাবার কাছ থেকে লাখখানেক টাকা নিয়ে কাজটি শুরু করেছিলাম। জমি খরচ, শ্রমিক, সার, কীটনাশক সব খরচ মিটিয়েও মৌসুমে কয়েক লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।

ফুলচাষি আজগর আলী ও কহিনুর ইসলাম জানান, বীজ বপনের ৩ মাসের মধ্যেই ফুল পাওয়া যায়। তাই এ চাষে হাতে নগদ টাকা পাওয়া যায় তাড়াতাড়ি। বাজারে ফুলের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ফুলচাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. একেএম নাজমুল হক জানান, শুরুতে কয়েকজন লোক ফুলের চাষ শুরু করেন। অল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন এ চাষে এলাকার লোকজন আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এখন সিঙ্গাইরের বিভিন্ন গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ চাষিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে