মেয়র পদে লড়তে মাঠে ৮ নেতা

  বিন্দু তালুকদার, সুনামগঞ্জ

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তফসিল ঘোষণার পর পরই সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা প্রার্থী হবেন, কোন দলের মনোনয়ন কে পাবেনÑ এ নিয়ে পাড়া-মহল্লায় চলছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে আটজন নেতা মেয়র পদে লড়তে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ূব বখত জগলুলের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মেয়র পদের উপনির্বাচন হবে ২৯ মার্চ। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ১ মার্চ; ৪ ও ৫ মার্চ বাছাই; ১২ মার্চ প্রত্যাহার; ১৩ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ এবং ভোটগ্রহণ ২৯ মার্চ।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আয়ূব বখত জগলুল গত ১ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার টানা দুবারের মেয়র ছিলেন।

মেয়র পদে লড়তে এ পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন প্রয়াত আয়ূব বখত জগলুলের পরিবার থেকে তার ছোট ভাই নাদের বখ্ত, গত নির্বাচনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাছন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আওয়ামী লীগ নেতা শংকর চন্দ্র দাস, আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা আদালতের পিপি ড. অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, জেলা যুবলীগের সদস্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরুল ইসলাম বজলু, গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং বিএনপি নেতা দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন।

জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে নৌকা প্রতীক চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন নাদের বখ্ত, দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, শংকর চন্দ্র দাস ও নুরুল ইসলাম বজলু।

তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নাদের বখ্ত, শংকর চন্দ্র দাস, দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন।

আর বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও দেওয়ান সাজাউর রাজা (সুমন)। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন। এর মধ্যে সাজাউর রাজা গতকাল বৃহস্পতিবার শহরে সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী শো-ডাউন করেছেন।

নাদের বখ্ত বলেন, ‘আমার বড় ভাই আয়ূব বখ্ত জগলুল সুনামগঞ্জ শহরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি এভাবে চলে যাবেন আমরা কেউই ভাবতে পারিনি। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। সুনামগঞ্জবাসীর পাশে থাকতে চাই।’

শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকেই নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাই। মনোনয়ন পেলে আমি নির্বাচন করব।’

দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। দলের মনোনয়নে নির্বাচন করতে চাই।’

খায়রুল কবির রুমেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে মাঠে কাজ করছি। গত দুটি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আয়ূব বখ্ত জগলুলের প্রতি সম্মান জানিয়ে হইনি। আধুনিক পৌরসভা গঠনে কাজ করতে চাই। দলের মনোনয়ন নিয়ে এবার নির্বাচন করতে চাই। ’

দেওয়ান গণিউল সালাদীন বলেন, ‘আমি গত নির্বাচনে প্রার্থী ছিলাম, এবার উপনির্বাচনেও প্রার্থী হব। সে লক্ষ্যে মাঠে গণসংযোগ করছি। সাধারণ ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন।’

অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমদ বলেন, ‘গত নির্বাচনে বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এবারও দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করতে চাই। দল ঐক্যবদ্ধভাবে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব এবং বিজয়ী হব।’

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমি দুবার পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলাম। শহরজুড়ে আমার পরিচিত রয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। মনোনয়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই আমি রাজনীতি ও নানা সামাজিক কাজে যুক্ত আছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের সেবা করতে চাই। দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে মাঠে নেমেছি। আশা করি, বিএনপির মনোনয়ন পাব।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ পৌরসভায় সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন আয়ূব বখ্ত জগলুল। তিনি পান ১৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেওয়ান গণিউল সালাদীনের ভোট ছিল ১০ হাজার ৪৮৬। তৃতীয় স্থানে ছিলেন বিএনপির অধ্যক্ষ মো. শেরগুল আহমদ। তিনি পান ২ হাজার ৪১৪ ভোট।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে