ফেসবুক মেসেঞ্জারনির্ভর যশোর বিএনপি

বড় বড় পদ-পদবিধারীরা নিষ্ক্রিয়

  যশোর প্রতিনিধি

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর জেলা বিএনপির বড় বড় পদ-পদবিধারী নেতাদের অধিকাংশ এখন নিষ্ক্রিয়। কেউ কেউ আত্মগোপন আর গা বাঁচানো স্টাইলে চলছেন। এ জেলায় বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ই-মেইলনির্ভর হয়ে পড়েছে। এ-জাতীয় আন্দোলন সাধারণ মানুষের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি করছে।

সূত্র জানিয়েছে, যশোর জেলা বিএনপির কমিটি ১৪১ সদস্যবিশিষ্ট। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ নেতাই নিষ্ক্রিয়। অনেকের কর্মকা- স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকার মতো।

বড় বড় পদ-পদবিধারী নেতাদের অধিকাংশ দলের কোনো কর্মসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন না। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া জেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা বলেছেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে যারা বিএনপিতে এসেছেন মূলত তারাই যশোরে এখনও পর্যন্ত দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। হাজারও প্রতিকূলতার মধ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এ কারণে তাদের অনেকের নামে ডজন ডজন মামলা হয়েছে। এ মামলার সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। তারপরও তারা কৌশলগত কর্মসূচি পালন করছেন।

হামলা-মামলার ভয়ে যাদের কোনো কর্মসূচিতে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের মধ্যে অন্যতম সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক, অ্যাডভোকেট জাফর সাদিক, মোহাম্মদ মুসা, আবু বক্কর আবু, সহ-দপ্তর সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, সহ-অর্থ সম্পাদক আবু সাইদ, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম, তথ্য সম্পাদক মহিবুর রহমান হিরণ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার মোজাম্মেল হোসেন, মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক সাইফুজ্জামান মজু, সহ-মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক লাল বাবু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামরুজ্জামান হারুন, কুটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, স্বনির্ভর সম্পাদক নাজির হোসেন মন্নু, ক্রীড়া সম্পাদক মাহতাব নাছির পলাশ ও কৃষিবিষয়ক সম্পাদক নুরজালাল রুনু।

এর বাইরে সহসভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা ঘরোয়া দু’একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন। যেখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি থাকে না। আর এক সহসভাপতি রফিকুর রহমান তোতন অসুস্থ। গোলাম রেজা দুলু মামলার কারণে যশোর ছাড়া। আবদুস সবুর ম-লকে কখনও কখনও দেখা যায় বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, দলীয় কর্মকা-ে যাদের অংশগ্রহণ থাকে না তাদের পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত। আগামী কমিটিতে এসব সুবিধাবাদী সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা বলেছেন, যশোর জেলা কমিটির বড় বড় পদধারীদের নিষ্ক্রিয়তা হতাশাব্যঞ্জক। আমি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ ছিলাম। খুব তাড়াতাড়ি সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বসে আমরা এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করব।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে