নতুন উপজেলা ও ছিটমহল যুক্ত করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ

  আসাদুর রহমান

১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:৫১ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হলেও বড় পরিবর্তনে যাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন। দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন উপজেলা ও বিলুপ্ত ছিটমহলকে যুক্ত করে সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া প্রস্তুত করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। সে ক্ষেত্রে প্রায় ৪৫টি আসনে আংশিক পরিবর্তন আসতে পারে। আজ বুধবার কমিশন বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হতে পারে। কমিশন চূড়ান্ত করার পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, এ বিষয়ে কমিশন বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরির্বতনের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবেন। কত আসনে পরিবর্তন আসতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেসব সিদ্ধান্তের আলোকে সীমানায় পরিবর্তন আসবে। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না। কাল জানতে পারবেন।

ইসির উপসচিব মো. আবদুল হালিম খান বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের সীমানায় তেমন পরিবর্তন আসবে না। যেসব জেলায় নতুন উপজেলা ও ছিটমহল রয়েছে, সেই জেলাগুলোয় আগের সংসদীয় আসনের সীমানার সঙ্গে এগুলো যুক্ত হবে। বুধবার (আজ) কমিশনে বৈঠক রয়েছে, সেখানে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

ইসির যুগ্ম সচিব মো. আবুল কাসেম বলেন, যেসব উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা হয়েছে, সেই উপজেলার আসনের সঙ্গে নতুন উপজেলাটি যুক্ত হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দশম সংসদে রাজবাড়ীতে একটি আসনে দুটি উপজেলা ছিল। এখন একটি উপজেলা ভেঙে দুটি করা হয়েছে। ফলে এ আসনে মোট তিনটি উপজেলা নিয়ে একটি আসন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ছিটমহলগুলো বর্তমানে যে আসনের উপজেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, সে হিসাবে সংসদীয় আসনের সীমানায় যুক্ত হবে।

ইসি সূত্র জানায়, ইসির তৈরি খসড়া অনুযায়ী ২০১৩ সালে দশম সংসদে আসন যেভাবে ছিল, সেভাবে থাকবে। নতুন উপজেলা ও ছিটমহলগুলো সংসদীয় আসনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে ৪০ থেকে ৪৫টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আসছে। সে ক্ষেত্রে নতুন উপজেলা, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, কুমিল্লার লালমাই, ওসমানী নগর, নলডাঙ্গা, তারাকান্দা, জীবননগর, কালুখালীসহ ২০১৩ সালের নতুন গঠিত উপজেলাগুলো যুক্ত করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীÑ এই তিন জেলার আসনে ছিটমহলের কারণে পরিবর্তন আসবে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের সীমানার খসড়া প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশনে আভিযোগের স্তূপ জমে। দেশের ৪২টি জেলা থেকে প্রায় ৪০০ আবেদন পড়ে ইসিতে। সাধারণ মানুষ, রাজনীতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে বর্তমান সংসদ সদস্যরাও সীমানা পরিবর্তনের আবেদন করেছে ইসিতে।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সীমানা পরিবর্তনের জন্য ৮৭টি আসনের প্রাথমিক তালিকা করে। কিন্তু নানা ধরনের দাবি, আপত্তি ও রাজনৈতিক সুপারিশের কারণে শেষ পর্যন্ত সীমানা পরিবর্তন হওয়া আসনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩।

ইসির সঙ্গে সংলাপে বিএনপি নতুন আইন করে ২০০১ সালে সংসদীয় আসনের যে সীমানা ছিল, সেটি ফিরিয়ে আনতে দাবি জানিয়েছিল। কারণ ২০০৮ সালে অধিকাংশ আসন পরিবর্তন করে ইসি। অন্যদিকে বিদ্যমান আসন পরিবর্তনের পক্ষে নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে