নাটোরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান

বিস্ফোরকসহ আটক ৪ পালিয়ে গেছে ৭ জন

  নাটোর প্রতিনিধি

১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোরের দিঘাপতিয়া জঙ্গি আস্তানা থেকে বেশকিছু বিস্ফোরকসহ নব্য জেএমবির চার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযান শুরুর আগেই পালিয়ে গেছে সংগঠক এক হোমিও চিকিৎসকসহ অন্তত সাতজন। তাদের আটক করতে জেলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ডিবি পুলিশ।

পুলিশের সূত্রগুলো জানায়, দিঘাপতিয়ায় উত্তরা গণভবনসংলগ্ন প্রবাসী ইকবাল শিকদারের বাড়িতে নব্য জেএমবির ১০-১২ জনের অবস্থানের বিষয়টি সোমবার রাত ১২টার দিকে নাটোর ডিবি পুলিশের দল নিশ্চিত হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাত ৩টার দিকে পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ ঘিরে ফেলে বাড়িটি। আত্মসমর্পণের জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা আহ্বান জানানো হয় নব্য জেএমবির সদস্যদের। সাড়া না পেয়ে ভোর ৫টা থেকে আধাঘণ্টায় পুলিশ ৯ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এর পর এক এক করে চার জেএমবির সদস্যই আত্মসমর্পণ করে। তারা হচ্ছে সিংড়া উপজেলার আরকান্দি এলাকার আনিছুর রহমান, বাগাতিপাড়া উপজেলার চাপাপুকুর এলাকার শফিকুল ইসলাম ও একই গ্রামের ফজলুর রহমান এবং নলডাঙ্গা উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার জাকির হোসেন।

পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জনান, বাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে ৫টি ককটেল, দুই লিটার পেট্রল, একটি ল্যাপটপ, তিনটি চাকু এবং কিছু সংগঠনের বই ও বোমার কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় পুলিশের এ অভিযান শেষ হয় বলে জানান তিনি।

আটক চার জেএমবি সদস্যকে সকালেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দুপুরের পর থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের বাকি সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে ডিবি পুলিশ। নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, এই চারজনকে আজ বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন দিঘাপতিয়া কলেজের শিক্ষার্থী আমির হামজা। তার খোঁজ এখনো পায়নি পুলিশ। আমির হামজাসহ পলাতক সবাইকে আটক করতে অভিযান চলছে।

অভিযান শেষে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একতলা বাড়ির চারিদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। বাড়ির চারটি রুমের মধ্যে একটিতে বৈদ্যুতিক লাইটের ব্যবস্থা ছিল। বাকি তিনটি রুমই অন্ধকার। পরিবেশটা ভুতুড়ে। বাড়িতে কোনো খাট পাওয়া যায়নি। একটি মাত্র রুমের মধ্যে খাকত আটককৃত ও পলাতকরা।

কয়েকজন এলাকাবাসীর জানান, এই বাড়িতে যারা থাকত, তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখত না। বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকত বাড়ির মূল গেট। মাঝে মধ্যে অপরিচিত দু-চারজনকে দেখা যেত বলে জানান তারা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে