আ.লীগে কোন্দল, বিএনপির একক প্রার্থী

  হামিদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম

২৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ মে ২০১৮, ০০:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী একজনই। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। তবে জোটবদ্ধভাবে ভোট হলে বিএনপির শরিক এলডিপি এ আসনটি চাইতে পারে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ আছে প্রার্থী সংকটে। বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের জনপ্রিয়তা একেবারে তলানিতে। ফলে এ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী আসবেন, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন জেলা পর্যায়ের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার বর্তমান জোট অব্যাহত থাকলে আগামীতে এরশাদ এই আসনে ছাড় নাও দিতে পারেন।

পূর্বদিকে সাতকানিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল, উত্তরে সঙ্খ নদী ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। আর দক্ষিণে পেকুয়া। পাহাড়বেষ্টিত বাঁশখালী অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবে উপদ্রুত। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এই উপজেলার মানুষ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখানে সাগরের ভাঙন অব্যাহত আছে। আর সেই ভাঙন ঠেকাতে সরকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করছে। আর এই বাঁধকে কেন্দ্র করেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠছে দুর্নীতির অভিযোগ।

বাঁশখালী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুলতানুল কবির চৌধুরী ১৯৯১ সালে জিতেছিলেন। এরপর প্রতিটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ হেরেছে। এমনকি স্থানীয় পৌর নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ের মুখ দেখেনি। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বাঁশখালীকেন্দ্রিক শীর্ষ নেতারা সবাই হয় ঢাকা, নয়তো চট্টগ্রামে থাকেন। তারা কখনো এক রাতের জন্যও বাঁশখালীতে অবস্থান করেন না। ফলে একসময়ের আওয়ামী লীগের নিশ্চিত এই আসনটি দিনে দিনে হাতছাড়া হয়ে যায়। দৃশ্যপটে চলে আসে বিএনপি। কিন্তু সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে এখানে চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হন উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির জহিরুল ইসলাম। ফলে বিএনপির ঘাড়ে এখন নিঃশ্বাস ফেলছে জামায়াতে ইসলামী। জোটের পক্ষে এই আসনের দাবিদার তারাও।

আওয়ামী লীগ : দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোনো একক আসন হিসেবে বাঁশখালীতেই আওয়ামী লীগে সবচেয়ে বেশি বিভক্তি ও কোন্দল। এই কোন্দলের কারণে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর কখনো সংসদ নির্বাচন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিততে পারেননি। আগে কোন্দল ছিল স্থানীয় নেতা সুলতানুল কবির চৌধুরীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর। বাবু মারা যাওয়ার পর তার ভাগিনা আবদুল্লাহ কবির লিটনের সঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের চরম কোন্দল রয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ্যে বলেছেন, আবদুল্লাহ কবির লিটন কোনোদিনই নৌকা মার্কায় ভোট দেননি। আগামী নির্বাচনে তারা দুজনই নিজেদের প্রার্থী বলে দাবি করছেন।

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আবদুল্লাহ কবির লিটন আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়েই সম্পৃক্ত নন। তিনি থানা আওয়ামী লীগের সদস্যও নন। বাঁশখালীতে তার ঘরবাড়িও নেই। আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করেন মোস্তাফিজ।

তবে আবদুল্লাহ কবির লিটন বলেন, মোস্তাফিজ একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি। তাকে নিয়ে কথা বলতে চাই না। বাঁশখালীতে আমাদের চারটি বাড়ি ছিল নদীতে ভেঙে গেছে। আর অনেকে এমপি হওয়ার পর বাড়ি করেছে। তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা ও নেত্রীর সুদৃষ্টি থাকলে আগামীবার আমি মনোনয়ন পাব। যদিও আওয়ামী লীগে শেষ কথা বলে কিছু নেই।

তবে এর বাইরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং একাধিকবার সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।

মুজিবুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে বাঁশখালীতে নানা দাতব্যমূলক কাজ করে যাচ্ছি। একান্নবতী পরিবার হওয়ায় আমাদের সবসময়ই বাঁশখালীতে সংযোগ রয়েছে। বাঁশখালীতে একটি প্রতিষ্ঠানও নেই যেখানে আমাদের অনুদান যায়নি। সেজন্য এলাকার মানুষের মধ্যেও একটি প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি : চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৯৬ সাল থেকে এ আসনে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। এবারও তিনিই এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী। তবে সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরীর জন্য শরিক দলের হয়ে আসনটি চায় এলডিপি। তিনি এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য।

জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এ আসনে বরাবরই একটি ফ্যাক্টর। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও ৩৬ হাজার ভোট পান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত আওয়ামী জোটের প্রার্থী হবেন এমন কথা এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে জোটের মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীই সবার পছন্দ।

জামায়াতে ইসলামী : বাঁশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম শেখের খীল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আগামী নির্বাচনে তিনিই এই আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে