বাজেট বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন সংগঠনের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। কোনো কোনো ব্যবসায়ী সংগঠন ও গবেষণা সংস্থা এ বাজেটকে জনকল্যাণবান্ধব উল্লেখ করে সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে। আবার কেউ কেউ কঠোর সমালোচনা করে বাজেটের কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) মতে, বাজেট বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের লুটপাটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আর পোশাক খাতে কর বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছে বিজিএমইএ।

এফবিসিসিআই : প্রস্তাবিত বাজেটে সন্তুষ্টির পাশাপাশি আপত্তিরও অনেক কিছু আছে। তবে এ বাজেট বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। গতকাল রাজধানীতে ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এফবিসিসিআইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। এ ছাড়া ব্যাংক খাতের লুটপাটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। এফিবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার যে ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে, তাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা হওয়ার পেছনে উচ্চ সুদহারকে দায়ী করেন তিনি। এ খাতের লুটপাটকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে লুটপাটকারী ও ডাকাতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

এ ছাড়া এফবিসিসিআই ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতেও তালিকাভুক্ত এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করপোরেট হার ২.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, পোশাকশিল্পের করপোরেট কর ১২ শতাংশ ও সবুজ কারখানার ক্ষেত্রে আগের মতো ১০ শতাংশে আনা, তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত খাতে ভ্যাট প্রত্যাহার করা ছাড়াও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

বিজিএমইএ : পোশাক খাতে কর বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহী হবে। গতকাল রাজধানীর বিজিএমই ভবনে বাজেট মূল্যায়নে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাজেটে ব্যাংক খাতে ২.৫ শতাংশ করপোরেট কর কমানো হয়েছে। কিন্তু উৎপাদনমুখী পোশাকশিল্পে তা বাড়িয়ে ১২-১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেখানে কিনা আমাদের অনুরোধ ছিল করপোরেট করহার ১২ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার জন্য। আর সবুজ শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে। এতে পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন। আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসে এটার সমাধান করব।

তিনি বলেন, ভ্যাট নিয়ে বহুবার আমরা এনবিআরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসেছি। আমরা বলেছি আমাদের ভ্যাটের আওতা থেকে মুক্তি দিন। রপ্তানি খাতকে সম্পূর্ণভাবে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখুন। তা না হলে ২০৩০ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব হয়ে যাবে।

সানেম : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চলমান বড় প্রকল্পগুলোকে দৃশ্যমান করার চেষ্টায় অতিরিক্ত খরচ করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেট নির্বাচনমুখী হওয়ায় খরচ করার প্রবণতা বাড়বে, যা নির্বাচনোত্তর সরকারের জন্য বোঝা হয়ে যেতে পারে।

গতকাল সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ চেম্বার : রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি বেশ কয়েক বছর ধরে ১৪ থেকে ১৭ শতাংশের বেশি না হওয়া সত্ত্বেও আসন্ন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি বাস্তবসম্মত নয়। এর ফলে উৎপাদনশীল খাতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গতকাল শনিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর আলোচনাকালে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করা হয়। বিসিআই বোর্ডরুমে সংগঠনটির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে এই আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বলা হয়, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার : ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার ২.৫ শতাংশ কমানো হলেও অন্যান্য খাতে কর কমানো উচিত বলে মনে করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।

উন্নয়ন অন্বেষণ : টাকার বিনিময়হার কমে যাওয়া, চলতি হিসেবে ঘাটতি ও উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতীশীলতা হুমকিতে পড়বে। এ ছাড়া বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। আর বিনিয়োগ কীভাবে বৃদ্ধি করা হবে, তার কোনো উপায় বলা হয়নি। রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগবান্ধব না হলে বাজেট চ্যালেঞ্জিং হবে।

বিজিএপিএমইএ : বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের করপোরেট করহার বিজিএমইএর সমান করার দাবি জানিয়েছে। ঘোষিত বাজেটে বিজিএমইএর করপোরেট করহার ১৫ শতাংশ। অথচ হ্যাঙ্গার, বোতাম, পলিব্যাগ ইত্যাদির করহার ৩৫ শতাংশই বহাল আছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৫ শতাংশ করার দাবি জানান তারা।

ওকে/ইউসুফ/৬৬৭

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে