পিচের রাস্তায় ইটের সোলিং

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক

  রফিকুল ইসলাম, যশোর

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ০৯:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ আর বর্ষায় সড়কযাত্রা নির্বিঘœ করতে যশোরজুড়ে চলছে ভাঙা রাস্তা সংস্কারের নামে জোড়াতালি দেওয়ার কাজ। কিন্তু সংস্কারের ধরন দেখে মানুষ বিস্মিত হয়েছেন। তেমনি এ নিয়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। আর এ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে যশোর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নজিরবিহীন পদ্ধতি। পিচের রাস্তায় করা হচ্ছে ইটের সোলিং। এতে কেবল কোটি কোটি টাকা জলেই যাবে না, বাড়বে দুর্ভোগ-দুর্ঘটনা।

যশোর জেলার মধ্যে পাঁচটি মহাসড়ক রয়েছে। এগুলো হচ্ছে যশোর-খুলনা মহাসড়ক, যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক, যশোর-মাগুরা মহাসড়ক, যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক এবং যশোর-নড়াইল মহাসড়ক।

এর মধ্যে যশোর-নওয়াপাড়া সড়কে রাজঘাট পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার, যশোর-বেনাপোল সড়কে ৩৮ কিলোমিটার, নাভারন-সাতক্ষীরা সড়কে ইলিশপুর পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার, যশোর-নড়াইল সড়কে ভাঙ্গুড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার, যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে মান্দারতলা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার, যশোর-মাগুরা সড়কে সীমাখালী ব্রিজের আগ পর্যন্ত ২২.৫ কিলোমিটার রাস্তায় চলাচলে নাকাল যাত্রীরা।

দেশের অন্যতম এ প্রাচীন জেলা শহর ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি, ডিজিটাল কর্মকাণ্ডে অগ্রগামী হলেও চলাচলের জন্য সড়কপথে সবার পেছনে। এখানকার সড়ক পরিণত হয়েছে মড়কে। দিন দিন অবস্থা ভয়াবহের দিকে যাচ্ছে।

যশোর সওজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যশোর-খুলনা মহাসড়ক দুটি প্যাকেজে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২১ কোটি টাকা। প্যাকেজ-১ এর আওতায় রয়েছে শহরের পালবাড়ি থেকে বসুন্দিয়া পর্যন্ত। আর প্যাকেজ-২ এর আওতায় রয়েছে বসুন্দিয়া থেকে রাজঘাট।

যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম গত ২০ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছিলেন, বসুন্দিয়া থেকে রাজঘাট পর্যন্ত সড়কের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। মূল কাজ এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে। কিন্তু তার সেই আশ্বাস যশোরের মানুষকে আবারও হতাশ করেছে। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে মূল কাজ তো শুরুই হয়নি; বরং জোড়াতালির কাজ চলছে।

সওজ সূত্র জানিয়েছে, যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক সংস্কারে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে হাইকোর্টে রিট হওয়ায় এ সড়কের কাজ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলে ২০ মার্চ জানিয়েছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী। বর্তমানে এই মহাসড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, মানুষ এখন বেনাপোলে যাওয়ার কথা শুনলে ভয়ে আঁতকে ওঠে। অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে যাওয়ার কারণে পিঠ বাঁচাতে সওজ কর্তৃপক্ষ পাকা রাস্তায় ইটের সোলিং করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সড়কের কাজটি কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করছে না। সওজ নিজেই জোড়াতালির কাজটি করছে। সংস্কারের এ পদ্ধতি যশোরবাসীকে বিস্মিত করেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এটা নিয়ে একেক ধরনের মন্তব্য করছেন। বেশিরভাগ মানুষ এটা নিয়ে মশকারা করে বলছেন, ‘এ আবার কোন ডিজিটাল।’ রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ মনের ঝাল মেটাচ্ছে সরকারকে গালাগালি করে।

পিচের মহাসড়কে ইটের সোলিং করা নিয়ে কথা হয় কয়েকজন গাড়িচালকের সঙ্গে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি আরও বিপদের কারণ হবে। বর্ষাকালে যেনতেনভাবে পাতানো ইট ঠিক থাকবে না। এই ইটগুলো এলোমেলোভাবে কাত হয়ে পড়বে। আর কাদা পানিতে পিচ্ছিল হয়ে থাকবে। যার ওপর দিয়ে গাড়ি চালানো কঠিন হবে।

যশোর-বেনাপোল সড়কে জোড়াতালির কাজ সম্পর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কত টাকা খরচ হবে তা কাজ শেষ না হলে বলা যাবে না। আর যশোরের সব রাস্তা পুরোপুরি সংস্কার হতে দুবছর লাগবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে