ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হচ্ছে গাজীপুর চিন্তিত প্রার্থীরা গাজীপুর

  আবুল হাসান, গাজীপুর

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী মাঠ নিয়ে প্রার্থীদের হিসাব-নিকাশ বাড়ছে। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা যার যার সুবিধামতো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, নিচ্ছেন নানা কৌশল। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরে গাজীপুরে কর্মরত বিভিন্ন পেশার লোকজন গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়ায় এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থীদের। ঈদে বাড়ি যাওয়া এসব ভোটার সঠিক সময়ে নির্বাচনী এলাকায় ফিরতে পারবেন কিনা এ নিয়ে চিন্তায় ভাঁজ

পড়েছে তাদের। এ অবস্থায় কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী শ্রমিকদের ভোটের আগে ফিরিয়ে আনতে তাদের বাস ভাড়া করে দিচ্ছেন। ওই বাস তাদের গন্তব্যে নিয়ে যাবে এবং ভোটের আগে তাদের গাজীপুরে নিয়ে আসবে।

গাজীপুর সিটি এলাকায় এক লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছেন, যারা শ্রমিক। ঈদের ছুটির পরই শুরু হবে নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ। এই সময়ে শ্রমিক ভোটারদের বেশিরভাগই থাকবেন লম্বা ছুটিতে। তাই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা চাইছেন শ্রমিকরা যেন ২৬ জুনের আগে কর্মস্থলে ফিরে আসে। কেউ কেউ শ্রমিক ভোটারদের যথা সময়ে ফিরিয়ে আনতে নিয়েছেন বিশেষ উদ্যোগ। এদিকে বড় দুই রাজনৈতিক দলের মেয়রপ্রার্থী প্রতিদিনের মতো গতকালও ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নগরীর ৫০ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি কাজে বিশ^াসী। কথা আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতির সময় শেষ। মানুষও এখন কাজ ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না।

রমজান মাসে জাহাঙ্গীর আলম নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডেই ইফতার সম্পন্ন করেছেন। মহানগর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ১০টি থানা আওয়ামী লীগ ২৭ দিনে শতাধিক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। অন্তত তিন লাখ মানুষ ইফতার করেছেন।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল নগরের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলগেট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজি দুলালের ব্যক্তিগত একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করেন। এর আগে তিনি নিজ বাসায় আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোর ছুটি হবে আগামী ১৫ জুন। কোনো কারখানা ১০ দিন, কোনো কারখানা তার বেশি ছুটি ঘোষণা করছে। এ ছাড়া অনেক শ্রমিক ছুটি শেষ হলেও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরে আসে না। যার কারণে ভোটের দিন শ্রমিক ভোটারদের অনুপস্থিত থাকাটা স্বাভাবিক। তাই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে শ্রমিক ও কারখানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন। কীভাবে শ্রমিকদের ভোটের আগে গাজীপুরে ফিরিয়ে আনা যায়।

কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটের আগে ফিরিয়ে আনতে তাদের জন্য বাস ভাড়া করে দিচ্ছেন। ওই বাস যথা সময়ে গন্তব্যে নিয়ে যাবে এবং ভোটের আগে তাদের ফিরিয়ে আনবে।

গাজীপুর শহরের শিববাড়ী থেকে চৌরাস্তা, চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী, চৌরাস্তা থেকে কোনাবাড়ী সড়কের দুপাশে থাকা কারখানার শ্রমিকদের বাড়ি যেতে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে রিজার্ভ বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে মহানগরের পাড়া-মহল্লার সড়কগুলোতেও প্রার্থীদের উদ্যোগে রিজার্ভ বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কাউন্সিলর প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

টঙ্গী এলাকার শ্রমিক নেতা মাইনুদ্দিন হোসেন বলেন, তার সঙ্গে টঙ্গীর ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী যোগাযোগ করেছেন। টঙ্গী বিসিক ও মিরাশপাড়া এলাকার শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য বাস ভাড়া করে দিতে চান। তাদের ইচ্ছামতো বাস ভাড়া করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

কোনাবাড়ি এলাকার কারখানা শ্রমিক আবদুুল মোমিন জানান, প্রতিবছর তিনি নিজে চারটি গাড়ি ভাড়া করেন উত্তরবঙ্গে যাওয়ার জন্য। তাদের বাসে থাকবেন রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রমিকরা। এতে তার কিছু লভাংশও থাকে। এবার স্থানীয় একজন কাউন্সিলর প্রার্থী শ্রমিকদের জন্য চার বাস ভাড়া করে দিচ্ছেন। এর জন্য কাউকে কোনো টাকা পরিশোধ করতে হবে না। তবে এ বিষয়ে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে