কোথাও কেউ নেই

  নজরুল ইসলাম

২৭ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ জুন ২০১৮, ১৪:৩৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘড়ির কাঁটা সকাল ৮টার ঘরে। ঘণ্টা বেজে ওঠে। নওজোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এখানে তিনটি বুথ। প্রথম বুথে ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থীর এজেন্ট থাকলেও আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর কোনো এজেন্ট ছিল না। আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর হয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন একজন

বহিরাগত যুবক। একই অবস্থা দেখা যায় পাশের বুথে। এভাবে এই কেন্দ্রের সব বুথ ঘুরে ঘুরে দেখা যায় এই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কারোই বৈধ কোনো পরিচয়পত্র নেই। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসারও কোনো উত্তর দিতে পারেননি। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নারী-পুরুষ ভোটাদের দীর্ঘ লাইন। সেখানেও নৌকা মার্কার ব্যাজ গলায় ঝুলিয়ে বাহিরাগতরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সামনে ভোটপ্রার্থনা করছেন। তবে এই কেন্দ্রের আশপাশে কোনো ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থীর সমর্থক কাউকে দেখা যায়নি।

কোনাবাড়ী এমইএইচ আরিফ কলেজ (মাধ্যমিক) কেন্দ্রে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায় ৬টি বুথের সব কয়টিই ভোটারশূন্য। এখানে ৪ নম্বর বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার শাহীন আকতার কক্ষে নেই। গণমাধ্যমকর্মীদের আসার খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে তড়িঘড়ি করে হাজির হন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটার নেই, তাই অন্য বুথে গিয়ে দেখলাম তাদের কত ভোট পড়েছে। তখন তার বুথে এক ঘণ্টায় মাত্র ১৮ ভোট পড়েছে। পাশের বুথে গিয়ে দেখা যায় ৩৩ ভোট পড়েছে। জানতে চাইলে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবুল মনসুর বলেন, এখানে ধানের শীষের ৬ জন এজেন্ট থাকার কথা ছিল, কিন্তু তিনজন আছেন। ভোটার উপস্থিতি কম। প্রথম এক ঘণ্টায় গড়ে প্রতি বুথে ২২-২৩টি ভোট পড়েছে। এই কেন্দ্রের আশপাশে নৌকা মার্কার সমর্থকদের দেখা গেলেও ধানের শীষের কাউকে দেখা যায়নি।

৯টা ৫৫ মিনিট। কাশিমপুর উচ্চবিদ্যালয়। এখানে চারটি কেন্দ্র। নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। ষাটোর্ধ্ব হিন্দু সম্প্রদায়ের এক মহিলা অপেক্ষা করে করে বিরক্ত হয়ে ভোট না দিয়ে ফিরে যান। নাম প্রকাশ না করে বলেন, সকাল থেকে দাঁড়িয়ে ছিলাম। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা জানান, ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। বুথে গিয়ে দেখা যায় বুথগুলো ভোটারশূন্য। এখানে ৪টি কেন্দ্রের কোনো বুথে ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থীর কোনো এজেন্ট নেই।

৩৯ নম্বর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাজমুল হক বলেন, ভোটাররা ঠিকমতো বুথ চিনতে পারছেন না। ধানের শীষের এজেন্ট না থাকার কারণ হিসেবে বলেন, তারা মোবাইল নিয়ে এসেছিল। বাইরে গেছে আর আসেনি। এ স্কুলের আশপাশে কোনো ধানের শীষের সমর্থকদের দেখা যায়নি।

১১টা ৩০ মিনিট। মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে ধানের শীষের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার কেএম হাফিজুর রহমান বলেন, ধানের শীষের এজেন্ট কেউ আসেনি। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের গাজীপুর জেলার সদস্য দেলাওয়ার হোসেন বলেন, তার পরিবারের সদস্যরা ভোট দিতে এসেছিলেন। কাউন্সিলর ভোট স্বাধীনভাবে দিতে পারলেও মেয়রপ্রার্থীর ভোটে পারেননি। নৌকা মার্কার এজেন্টরা তাদের ব্যালট পেপার নিয়ে সিল মেরে বাক্স ভরেছে।

জানতে চাইলে ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সোহরাবউদ্দিন বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার শুরু করে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে। তার পরও নানা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে গতকাল ভোট শুরুর আগেই ধানের শীষের এজেন্টরা কেন্দ্র্রে গেলে বেশিরভাগ কেন্দ্র থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে