এক ভোটারের জবানবন্দি

  মুহম্মদ আকবর

২৭ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৭ জুন ২০১৮, ১৪:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুরুটা ছিল উৎসবমুখর। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রের সামনে সারবেঁধে দাঁড়িয়ে ভোটাররা। সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিয়ে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। র্যাব, বিজিবি, মোবাইলকোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক দলকে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকতে

দেখা যায়। শুরুতে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের সহায়ক বিভিন্ন বুথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিতদের দেখা গেলেও সকাল ১০টার পর বিএনপি সমর্থিতদের দেখা মেলেনি। বিএনপি বলছেÑ তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় এক গার্মেন্টসকর্মী আমাদের সময়কে বলেন, সকালে উভয় দলের সমর্থক ছিলেন; কিন্তু কিছুক্ষণ পর এসে দেখেন ধানের শীষ সমর্থকরা নেই। কেউ তাড়াল, না নিজেরাই সরে গেলÑ এ বিষয়ে পরিষ্কার জানা নেই তার। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা জানান, আমরা ভোটারদের সহায়তার জন্য যারপরনাই কাজ করে যাচ্ছি। এখানে কারা এলো কারা গেল তা দেখার সময় নেই।

সমর্থকদের ভিড় না থাকলেও টঙ্গী এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রেই বিএনপির পোলিং এজেন্ট ছিল। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নিজের ওয়ার্ডে এবং তার পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডগুলোর ভোটকেন্দ্রগুলোয় বিএনপির কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের অভিযোগÑ তাদের মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমের পাল্টা বক্তব্যÑ বিএনপি পোলিং এজেন্ট দেয়নি।

দুপুরে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের নীলেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের তেমন লাইন দেখা গেল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এখানে সকালে এসে হুমকি-ধমকি দিয়ে পোলিং এজেন্ট সরিয়ে নিজেরা সিল মেরে ভোটের কাজটি শেষ করেছে। বাকি সময় শুধু আনুষ্ঠানিকতা। স্কুলসংলগ্ন নীলেরপাড়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী জানান, এটা জাহাঙ্গীর সাহেবের এলাকা। এখানে বড় ব্যবধানে জিততে হবেÑ এ কথা বলে সিল মারে কয়েকজন। নীলেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে ফিরে আসেন এক বৃদ্ধা। কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবা গো ভোট দিতে পারি নাই। আমার ভোট কে যেন দিয়ে দিয়েছে।’

পোলিং এজেন্ট বের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জয়দেবপুর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রেও। পার্শ্ববর্তী ভোটকেন্দ্র কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মেরে এজেন্ট তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপি সমর্থকদের ভাষ্য, পুরো গাজীপুর জুড়েই জাহাঙ্গীর আলমের পোস্টার, ব্যানার। তার সমর্থক ও কর্মীদের উচ্ছ্বসিত ভিড়। কিন্তু হাসান উদ্দিন সরকারের পোস্টার হাতে কয়েকটা কেন্দ্র ছাড়া কোথাও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। নিজেদের বুথে বসার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভীর অভিযোগ পোলিং এজেন্টসহ ভোটকেন্দ্রের সামনে থাকা সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণিত নির্বাচনের স্বাভাবিক পথকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে