শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি পারাপারে ওয়ানওয়ে

লৌহজং টার্নিংয়ে তীব্র ঘূর্ণিস্রোত

  মুন্সীগঞ্জ ও শিবচর প্রতিনিধি

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে তীব্র ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয়ে ফেরিসহ নৌযান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। স্রোতের গতিবেগের সঙ্গে উজানে নদীভাঙনের পলি পড়ে সৃষ্টি হয়েছে নাব্যতা সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার সন্ধ্যায় বিকল্প ওয়ানওয়ে চ্যানেল চালু করা হয়েছে। ফেরিসহ নৌযান চলাচল করছে ওয়ানওয়ে পদ্ধতিতে। এতে নৌপথের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার বেড়ে পারাপারে দীর্ঘ সময় লাগছে।

এদিকে গত দুই দিনে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় পণ্যবাহি ট্রাকসহ নদী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ যানবাহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে যাত্রীরা শিকার হচ্ছেন দুর্ভোগের। এ রকম চলতে থাকলে আসন্ন কোরবানির ঈদে এ নৌরুটে যাত্রী পারাপারে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসিসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে বন্যার পানি বাড়ছে। এতে স্রোতের গতিবেগ তীব্র আকার ধারণ করায় লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে তীব্র ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গত তিন দিন ধরে এই পয়েন্টে ফেরিগুলোকে একপ্রকার যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে উজানে তীব্র নদীভাঙনের ফলে ভেসে আসা পলিতে টার্নিং পয়েন্টে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। রয়েছে স্রোতের সঙ্গে উত্তাল ঢেউ। এতে সব নৌযানের সঙ্গে এ রুটের ছয়টি ডাম্ব ফেরি চলাচল করছিল প্রায় দ্বিগুণ সময় ও অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যায় ছয় কিলোমিটার ভাটিতে বিকল্প চ্যানেল চালু

করা হয়েছে। বিকল্প এ চ্যানেল দিয়ে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিসহ নৌযানগুলো চলছে। আর লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট হয়ে কাঁঠালবাড়ি থেকে ছেড়ে যাওয়া নৌযান চলাচল করছে। স্রোতের প্রতিকূলে বিকল্প চ্যানেলে ছয় কিলোমিটার বাড়তি নৌপথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে নৌযানগুলোর ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। গত বছরের ১০ জুলাই একই সংকটের কারণে অচলাবস্থা দেখা দেওয়ায় একই পদ্ধতি অবলম্বন করে ফেরিসহ নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এ রুটে ১৯টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ ও দুই শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করে।

ডাম্ব ফেরি ল্যান্টিং মাস্টার ইনচার্জ মিন্টু রঞ্জন দাস বলেন, লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে এ তীব্র ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হওয়ায় ডাম্ব ফেরি ক্রস করা দুরূহ ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, পদ্মায় দ্রুত পানিবৃদ্ধি ও স্রোতে পলি ভেসে এসে চ্যানেলের মুখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে ফেরি পরিচালনায় অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিকল্প ওয়ানওয়ে চ্যানেল চালু হলেও পারাপারে অনেক সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট সহকারী ম্যানেজার মো. রুহুল আমিন বলেন, ফেরিগুলো নতুন চ্যানেল ব্যবহার করে এখন চলাচল শুরু করেছে। যেহেতু দূরত্ব বেড়েছে, তাই তীব্র স্রোতের প্রতিকূলে পার হতে বাড়তি সময় লাগাটা স্বাভাবিক।

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন কর্মকর্তা আহমেদ আলী বলেন, নদীতে তীব্র স্রোত। বিশেষ করে লৌহজং টার্নিংয়ে ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হওয়ায় এটি ক্রস করতে ফেরিগুলোকে হিমশিম খেতে হতো। তাই বিকল্প চ্যানেল চালু করা হয়েছে।

এদিকে এই নৌরুটের নিয়মিত ১৬টি ফেরির চলাচল করলেও এখন চলছে মাত্র ১০টি। ফেরি স্বল্পতায় শিমুলিয়া ঘাটে দেখা দিয়েছে পণ্যবাহি ট্রাকের দীর্ঘ সারি। শুধু ঘাটের পাকিং ইয়ার্ডই নয়, যানজট ছড়িয়ে পড়েছে মহাসড়কেও। মহাসড়কের পাশে এখন কয়েকশ পণ্যবাহি ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। শিমুলিয়া ভাঙা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে ট্রাকের সারি।

মাওয়া ট্রাফিক বিভাগের টিআই সিদ্দিকুর রহমান জানান, ফেরি চলাচলে সমস্যার কারণে ঘাটে প্রচুর যানজট দেখা দিয়েছে। পাকিং ইয়ার্ড থেকে এ যানজট চলে গেছে মহাসড়কেও। এ সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হলে দক্ষিণবঙ্গের পণ্যপরিবহনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে