sara

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচানোর ঘোষণা দিল নবগঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট। গতকাল বুধবার পুরানা পল্টনের মৈত্রী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আট দলের সমন্বয়ে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ এর সূচনাকালে তারা এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আটটি রাজনৈতিক দলÑ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন সমন্বয়ে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

জোটের প্রথম সমন্বয়ক হিসেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা হলেনÑ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মো. শাহ আলম, খালেকুজ্জামান, বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাইফুল হক, আকবর খান, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, জোনায়েদ সাকি, ফিরোজ আহমেদ, মোশাররফ হোসেন নান্নু, অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, মোশরেফা মিশু, মমিন উর রহমান বিশাল, হামিদুল হক ও রণজিত কুমার।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এই সরকারকে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশনে সংস্কার আনাতে বাধ্য করা হবে। আমাদের জোট ভোট সর্বস্ব জোট না, আমরা প্রয়োজনে ভোটে যাব, প্রয়োজনে ভোট বয়কট করব।

এই জোট নির্বাচনে যাবে কি? এই প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, এই সরকারের হাত থেকে আমরা দেশকে বাঁচাতে চাই। আমরা গণতন্ত্রকে বাঁচাতে চাই। নির্বাচনে যাব কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি। আপাতত একটা কথা বলতে চাই, আমরা ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার জন্য জোট করছি না।

এই জোটে অন্য কোনো বাম দলের আসার সুযোগ আছে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যারা পাকা বাম অর্থাৎ ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে আছে তাদের স্থান আমাদের এখানে নেই। এদের কেউ যদি নিজেদের ভুল বুঝতে পারে তাহলে আমরা ভেবে দেখব। তবে আমরা আমাদের জোটে ফুল স্টপ দেইনি। এই জোট সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ আছে।

বামদের মধ্যে এত বিভাজন কেন? জবাবে সিপিবি সভাপতি বলেন, বামদের মধ্যে যদি বিশটা ভাগ থাকে, তাহলে অন্য দলগুলোর মধ্যে দুইশত ভাগ আছে। এইগুলো আলোচনায় আসে না, আমাদেরটা আসে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ও সরকারের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের উন্নয়নের রাজনীতিতে ধনী গরিবদের মধ্যে আয় ও সম্পদের সীমাহীন বৈষম্য বাড়ছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের অপতৎপরতা চলছে।

সাইফুল হক আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে বড় দুই দলের বিদেশি প্রভুদের কাছে ধর্ণা বাংলাদেশে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে তুলেছে। বিপদগ্রস্ত করছে দেশের সার্বভৌমত্বকে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের ‘নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের’ মডেল নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকারকে প্রহসনে পরিণত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সকল দল ও সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে নেতৃবৃন্দ দেশ বাঁচানো, গণতন্ত্র বাঁচানো লড়াই গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

আগামী দিনের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সাইফুল হক বলেন, দুঃশাসন, জুলুম, দুর্নীতি-লুটপাটতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র প্রতিরোধ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী ২৪ জুলাই ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ৪ আগস্ট, ২০১৮ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে ঢাকায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১০ ও ১১ আগস্ট দেশের ৬টি বিভাগীয় শহর, যথাক্রমে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুরে সভা, সমাবেশ, জনসভা, মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে