মসলার বাজারে সুখবর

আমদানিনির্ভর দুই পণ্য ছাড়া সবগুলোর দাম কম

  তৈয়ব সুমন, চট্টগ্রাম

১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০৯:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মসলার বাজারে এলাচ আর দারুচিনি ছাড়া বাকি সব ধরনের পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম। এ বছর এলাচের দাম কেজিতে ২৫০ টাকা বেশি। দারুচিনির দাম বেশি কেজিতে ৪০ টাকা। তবে গত সপ্তাহে কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে শুকনামরিচ ও ধনিয়ার দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারে তারা আগেভাগেই বেশি মসলা আমদানি করেছেন। তাই কোরবানি ঈদের আগে বাড়েনি মসলার দাম। আর দাম বাড়ার খুব একটা আশঙ্কা নেই।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এহসান উল্লাহ জাহেদী আমাদের সময়কে বলেন, এলাচ আর দারুচিনির মৌসুম হচ্ছে নভেম্বর ও ডিসেম্বর। তখন এই দুই পণ্যের দাম কম থাকে। এখন আমদানিনির্ভর দুই পণ্য ছাড়া বাকি সব ধরনের মসলার দাম গত বছরের তুলনায় কম।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, গুয়েতেমালা থেকে আমদানি করা সবচেয়ে ভালো মানের এলাচের দাম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ টাকায়। একই সময়ে গতবছর বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ১৩০০ টাকায়। বছর ব্যবধানে এলাচের দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা। দারুচিনি আমদানি হয় চীন ও ভিয়েতনাম থেকে। এক বছরের ব্যবধানে দারুচিনির দাম বেড়েছে প্রতিকেজি ৪০ টাকা। চীনা দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। আগে ছিল ২০০ টাকা। আর ভিয়েতনামের দারুচিনি বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ২৩০ টাকায়। এটি ছিল এক বছর আগে ১৯৫ টাকা।

জিরা বর্তমানে ৩১০-৩২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর ছিল ৩৫০-৩৬০ টাকা। গোলমরিচ (কালো) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। গত বছর ছিল ৫০০-৬০০ টাকা। সাদা গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। একই সময় গত বছর ছিল ৭৫০-৮০০ টাকা। দেশি আদা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, চায়না আদা ৭০-৮০ টাকা। অথচ গত বছর আদার দাম ছিল ১০০ টাকার ওপরে। রসুনের দাম কমছে ১০০ টাকার ওপরে। বর্তমানে রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। আর গত বছর একই সময়ে ১৫০-১৬০ টাকা। পেঁয়াজ বর্তমানে ২৫-৩০ টাকা। গতবছর ছিল ৪০-৪২ টাকা।

খাতুনগঞ্জের মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার পাইকারি ব্যবসায়ী মেসার্স খান ব্রাদার্সের মালিক মো. খোকন খান আমাদের সময়কে বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে বাড়ছে শুকনামরিচ ও ধনিয়ার দাম। এই দুই পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ টাকা। ভারত থেকে আমদানি করা শুকনামরিচ (মোটা) পাইকারিতে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকা, একই দেশ থেকে আমাদানি করা চিকন মরিচ ১৫৮-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুরের মরিচ ১৪০ টাকা, পঞ্চগড়ের বিন্দু মরিচ ১৪৫ টাকা। ফরিদপুর এলাকার ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকায়। ইথিওপিয়া থেকে আমদানি করা ধনিয়া ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মরিচ ও ধনিয়ার দাম পাঁচ টাকা কম ছিল। আর দেশি হলুদ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০৬-১০৮ টাকায়। এর দাম বাড়েনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রধান ছয় ধরনের মসলা আমদানি হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ কেজি। এক বছরের ব্যবধানে মসলা আমদানি বেড়েছে ৪৪ লাখ কেজি। গত অর্থবছরে ৪০ লাখ কেজি এলাচি আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৯ লাখ কেজি বেশি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে