‘উৎস’ মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র

  রেজাউল রেজা

১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছর ‘উৎস’ মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের লাইসেন্স বাতিল করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অথচ নিরাময় ও পুনর্বাসনের নামে সেখানে এখনো দিব্যি চলছে বিভিন্ন প্যাকেজ বাণিজ্য। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ, সেবাও খুবই নিম্নমানের। রোগীদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায় সবচেয়ে বেশি।

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকার ১৫ নম্বর রোডের ছয়তলা একটি ভবনের নিচতলা ও দোতলাজুড়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অধিদপ্তর থেকে মাত্র ১০ সিটের অনুমতি নিয়ে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে দেদার। উৎসে এক সময় চিকিৎসা নেওয়া সবুজ (ছদ্মনাম) বলেন, ‘সুস্থ হওয়ার পরও আমাকে অসুস্থ দেখিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল বহুদিন। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করা হতো, আর আব্বু-আম্মুর কাছ থেকে প্রতিমাসের খরচ নিত তারা। পরে আমি আব্বু-আম্মুকে বোঝাতে সমর্থ হই এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করি।’

আরেক ভুক্তভোগী আরিফ (ছদ্মনাম) বলেন, ‘চিকিৎসার নামে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় ওখানে। আমার সঙ্গেও ঘটেছে এমনটি। তারা আটকেই রাখে শুধু, ওটাকে চিকিৎসা বলে না। অথচ ঠিকই মোটা টাকা আদায় করে তারা।’

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শাখার সহকারী পরিচালক ঊর্মি দে বলেন, ‘উৎসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের গোয়েন্দা টিম প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে। অভিযানে তাদের নানা অনিয়ম ধরা পড়ে, যা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালাবিরোধী। পরে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে লাইসেন্স বাতিল করা হয়।’ এর পরও বন্ধ হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি

প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা গেছে রোগী ধরতে বেশ বিনয়ী তারা। অনুমোদনের বাইরেও ভর্তি রয়েছে অতিরিক্ত রোগী। এভাবে মাসে মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এখানে চার মাসের সেবার জন্য প্রত্যেক রোগীকে দিতে হয় ৮৩ হাজার টাকা। এর পর প্রতি মাসে দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা করে। আর যারা প্রথমে চার মাসের প্যাকেজ সেবা গ্রহণ করেননি, তাদের জন্য প্রতি মাসের ফি ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া লোক বুঝে রয়েছে বিভিন্ন ছাড়ের ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে কথা হয় উৎসের নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। বলেন, ‘লাইসেন্স নেই, তবে অধিদপ্তরের কাছে চিঠি দিয়ে অনুমতি নেওয়া হয়েছে।’

লাইসেন্স বাতিলের পর প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য কোনো প্রকার অনুমতি দেওয়া হয় না বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ভাই; এভাবেই চালাতে হয়।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে