শেয়ারবাজার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ৭ পরামর্শ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:৩৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (বিএসইসি) সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে বাজারকে গতিশীল করতে এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ৭টি পরামর্শ দেন তিনি। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএসইসি রজতজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সুপারিশগুলো করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো হচ্ছেÑ দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, নতুন নতুন প্রডাক্ট চালুকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর পছন্দের বাস্কেট (ঝুলি) সম্প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করা, নতুন প্রডাক্ট চালুর পূর্বে তার পরিচিতি, পরিচালন প্রক্রিয়া ও কৌশল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিতকরণ এবং বিএসইসির প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম জোরদার করে সর্বস্তরে বিনিয়োগ শিক্ষা বিস্তৃতকরণ। এ ছাড়া পুঁজিবাজারের সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি সব জায়গায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, এসব কর্মকা- বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং দেশের অগ্রগতির ধারা আরও বেগবান হবে।’
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোথায় বিনিয়োগ করছেন এবং এর ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ থাকবেন। আমি অনুরোধ করব, যে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করবেন, সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তা করুন। বিনিয়োগ করে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, এটা আমরা চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ পুঁজিবাজারের বিকাশে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। পুঁজিবাজার আজকে স্থিতিশীল অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশের বাজার দ্রুত বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের সরকার ভবিষ্যতেও এর উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে, যাতে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি নির্ভরযাগ্য উৎস হয়ে ওঠে।’ ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধসের পর স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠন, আইন সংস্কার ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের

প্রণোদনা দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কর্মপ্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে বিএসইসি পেয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মান, বেড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ। আমাদের বাজারের প্রতি ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ায় এবং চীনের কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় পুঁজিবাজারের ‘গভীরতা’ বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীসহ স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেন। এ ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানির পদস্থ কর্মকর্তা এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে