বিশ্বে ৪ জনে একজন অলস

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ, অনলাইনভিত্তিক আয় ইত্যাদি নানা কারণে বিশ্বে বর্তমানে ৪ জনের মধ্যে একজন অলস জীবন কাটাচ্ছে। স্বাস্থ্য নিয়ে জরিপ করা প্রতিষ্ঠান ল্যানচেট গ্লোবাল হেলথ পেপার বুধবার এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

অলসতার কারণে মানুষের অসংক্রামক রোগ বাড়ছে, বাড়ছে মানসিক অশান্তি। কমে যাচ্ছে জীবনযাত্রার মানÑ এমনটাই দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বৈশ্বিক আদর্শ জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের ১৬৮টি দেশের ১৯ লাখ মানুষের ওপর জরিপ করে এসব তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। গত সপ্তাহে সংগঠনটি প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করলেও গতকাল পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ অলস কিংবা শারীরিক পরিশ্রম করছে না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারাবিয়ান অঞ্চল। এ অঞ্চলে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ অলস বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে।

প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়, উচ্চআয়ের দেশগুলোয় মধ্যম আয় ও নিম্নœআয়ের দেশগুলোর চেয়ে অলসদের সংখ্যা বেশি। আর সবচেয়ে কম অলস রয়েছে নিম্নœআয়ের দেশগুলোয়। আর উচ্চআয়ের দেশগুলোয় অলসদের সংখ্যা বাড়লেও পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ সংখ্যা কমছে। বর্তমানে নিম্নআয়ের দেশে মাত্র ১৬ দশমিক ২ শতাংশ লোক শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করে না। আর উচ্চআয়ের দেশগুলোয় ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ শারীরিক পরিশ্রম করছে না।

তবে অলসতার দিক থেকে পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যা বেশি বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনটিতে। বিশ্বের মোট পুরুষের ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ অলসের বিপরীতে ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ নারী অলস। নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অলসদের দেখা মিলবে ল্যাটিন ও ক্যারাবিয়ান অঞ্চলে। এখানে প্রায় ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ নারীই কোনো শারীরিক পরিশ্রম করে না। তবে নারী ও পুরুষের আলস্যের অনুপাতের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার অঞ্চলে। এখানে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ নারী শারীরিক পরিশ্রম করে না।

এশিয়ায় আলস্য কম হওয়ার কারণ হিসেবে চীনের প্রভাবকে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, চীনের প্রায় সব প্রদেশের লোকজনই কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত। এমনকি অবসর সময়েও তারা কাজ করছে। অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধির ফলে চীনের বৃদ্ধরাও বিভিন্ন শারীরিক পরিশ্রমের কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ফলে এশিয়া অঞ্চলে শুধু আমোদ-ফুর্তি করে দিন কাটানোর চেয়ে কর্মক্ষেত্রেই থাকতে পছন্দ করছে তারা।

এ ছাড়া নিম্নআয়ের দেশে শারীরিক পরিশ্রমের কারণগুলোর মধ্যে বলা হয়, অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিম্নআয়ের দেশের মানুষ বেশি পরিশ্রম করছে। এ ছাড়া আয় কম থাকার কারণে কর্মক্ষেত্র বা অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছে এসব দেশের মানুষ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে