সিলেটে এমপিকে ‘রাজাকারের ছেলে’ বললেন উপজেলা চেয়ারম্যান

  সিলেট ব্যুরো

১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১১:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সখ্য এবং এলাকাকে উন্নয়নবঞ্চিত রাখার অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাহিদ। গতকাল সোমবার দুপুরে সিলেটের জিন্দাবাজারে একটি হোটেলে আয়োজিত

সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এমপির অসহযোগিতা ও অসৎ মানসিকতার কারণে দক্ষিণ সুরমার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এবং সাংগঠনিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এমপিকে ‘রাজাকারের ছেলে’ অভিহিত করে আগামী নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এমপির বাবা মৃত দেলোওয়ার হোসেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন দাবি করে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালে তার করা তালিকা অনুযায়ী স্থানীয় ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিমবাজারে কাইয়ার গোদামে নিরীহ নারীদের নির্যাতন, স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

আবু জাহিদ অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমপি গোপনে-প্রকাশ্যে ভূমিকা পালন করেন ধারবাহিকভাবে। তার কারণে জামায়াত মনোনীত দুই প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। তার অসহযোগিতা ও রোষানলে পড়ে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করতে পারছেন না। সম্প্রতি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ থেকে ১ কোটি ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকার প্রকল্প পরিষদে গৃহীত হলেও কাজ শুরু হওয়ার আগেই তিনি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।

এর আগেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ এমপির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগহ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রইছ আলী, মোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম সাইস্তা, আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন, তপন চন্দ্র পাল, জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম ইছন প্রমুখ।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন এলেই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। উল্টো সংবাদ সম্মেলনকারীদের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরীর লোক দাবি করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পরই এই সংবাদ সম্মেলন হলো। যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তারা কখনো আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি। তারা সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেন না। রাতে স্টেশন ক্লাবে আমোদ করেন, আর দিনে ষড়যন্ত্র করে বেড়ান।

তার পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন নাÑ দাবি করে এমপি বলেন, আমার বাবা ১৯৬৫ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন, আমি ১৯৬৮ সাল থেকে ছাত্রলীগ করি, আমার দুই ভাই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে