তার খোঁজ কেউ রাখে না

  শাকিল মুরাদ, শ্রীবরদী (শেরপুর)

১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৫৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

আশপাশের বাড়িতে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। বয়সের ভারে ও নানা রোগশোকে এখন আর হাঁটাচলা করতে পারেন না। এ জন্য ঝুপড়িঘরেই পড়ে থাকেন। কেউ খাবার দিলে খান, না দিলে উপোস। ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান কিংবা সমাজপতি তার খোঁজ কেউ রাখেন না। তার কথা কেউ বলে না। নিয়তির দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া এখন তার আর কিছু করার নেই। তিনি মোমেনা বেগম। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার তাঁতিহাটি ইউনিয়নের ভটপুর গ্রামের মৃত মজিবর আলীর স্ত্রী।

‘৯৬ বছর অইছে (হয়েছে) অহনো (এখনো) কার্ড অইলো (হলো) না। মেলা চেষ্টা করলাম। মেম্বার-চেয়ারম্যানগো কইলাম। কেউ আমার কথা শুনল না। আপনারাই কন, আর কত বয়স অইলে আমার কার্ড অইব?’ আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন মোছা. মোমেনা বেগম।

এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা তিনি। মেয়ে দুটিকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেটাও দীর্ঘদিন ধরে অসুখে ভুগছেন। মোমেনা থাকেন ছেলের সঙ্গে একটি ঝুপড়িঘরে, তা-ও অন্যের জমিতে। বৃদ্ধার ছেলে সুরুজ মিয়া বলেন, আমার বয়স প্রায় ৭০ বছর। আমি নিজেও অসুখে ভুগছি। আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম, এখন অসুখের কারণে তা-ও করতে পারি না। এখন নিয়তি ছাড়া আমাগোর আর উপায় নাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, তারা (বৃদ্ধা মোমেনা বেগম) আমার কাছে এসেছিলেন। তাদের দুরবস্থা দেখে আমি তার নাম তালিকা করে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন জানতে পারলাম তালিকায় তার নাম নেই।

উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সরকার নাছিমা আকতার বলেন, আমি তার নাম লিখে নিলাম। কার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে