বিদেশি কর ফাঁকিবাজ ধরতে এনবিআরের নতুন উদ্যোগ

  আবু আলী

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের করজালের আওতায় আনতে এবং ফাঁকি রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর ফাঁকিবাজ চিহ্নিতে টাস্কফোর্স গঠনের পাশাপাশি বিদেশিদের মাঝে বিতরণ করা হবে লিফলেট। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে কর বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়া হবে। গেল বছর সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরে বোর্ড সভা থেকে নেওয়া এমন কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে কাজ চলছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি মিশনগুলোয় বাংলাদেশে ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছে ওই লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি এনবিআর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) ও পুলিশের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি-যার কাজ হবে কর ফাঁকি দেওয়া বিদেশিদের চিহ্নিত করা। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘বিদেশিদের একটা ট্যাক্স কালচারের মধ্যে আনতে চাই। সাধারণত তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ কর হিসেবে দিতে হয়। তাই বিদেশিদের অনেকেই টুরিস্ট ভিসায় এসে চাকরি করছেন; কিন্তু এগুলো যাতে না হয় সেটাই আমরা লক্ষ রাখব।’

বিআইডিএর তথ্যানুসারে, বাংলাদেশে ওয়ার্ক পারিমট নেওয়া বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪। ই-টিআইএন নিবন্ধিত বিদেশি ১২ হাজার ৪১ জন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ কর্মী বেআইনিভাবে এ দেশে চাকরি করছেন। সবাইকে করজালের আওতায় আনতে পারলে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে দেশ বঞ্চিত হবে না।

সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে বিদেশিদের আয়কর বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়ার জন্য লিফলেট প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য, বিমান ও স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে এ লিফলেটের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের আয়কর বিষয়ে ধারণা দেওয়া। লিফলেটের শব্দ চয়ন আকর্ষণীয় ও নান্দনিক প্রচ্ছদ তৈরি করা হবে। আর তার গায়ে এ-ও লেখা থাকবে, ‘শুধু উপার্জনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য’।

অন্যদিকে দেশে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের খুঁজে বের করতে বিআইডিএ, এনএসআই ও পুলিশের সাহায্য নেবে এনবিআর। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে যৌথ অভিযানও চালানো হবে। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ, চলে যাওয়া, আবাসস্থল বা অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে টাক্সফোর্স। এ বিষয়ে এনবিআরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বসবাসরত বিদেশিদের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নেই। এনবিআর ২০১৬ সালে এ ধরনের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনবিআরের আয়কর শাখা সরেজমিন অন্তত ৩০টি কোম্পানির হদিস পেয়েছে, যেখানে বিদেশি নাগরিক কর্মরত। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলোকে বিষয়টি অবগতও করা হয়েছে। পাশাপাশি কর কর্মকর্তারা বিমান ও স্থলবন্দরগুলোয় বুথও স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো ফল আসেনি। বিআইডিএ বিদেশি নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করলেও বেশিরভাগই কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য টুরিস্ট ভিসা নিয়ে এ দেশে আসেন এবং অবৈধভাবে কাজ করতে থাকেন। এ জন্য নিয়োগদাতা কোম্পানিগুলোই দায়ী। আমরা এসব বিষয় মাথায় রেখেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশপাশি সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিচ্ছি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে