সরকার অচিরেই বিশাল ধাক্কা খাবে : বিএনপি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকারকে অচিরেই বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন।

নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, সারাদেশে বিরোধী দল, মত ও বিশ^াসের মানুষরা সরকারি সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত। সরকার মনে হচ্ছে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত ৩০ ডিসেম্বরের আগের দিন অন্ধকার রাতে ভোট ডাকাতি ও ভোট হরিলুট সরকারের জন্য শুভবার্তা নয়; বরং এই অপকর্মের জন্য অচিরেই বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হবে ভোটারবিহীন সরকারকে। জোর করে ক্ষমতায় থাকাটা এই ম্যান্ডেটহীন সরকারের জন্য হবে বিবিধ অমঙ্গলের উৎস।

রিজভী বলেন, সরকার তথাকথিত হিংসা ও মহাজালিয়াতির নির্বাচনের বিনিময়ে দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করেছে। এখন দমননীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর করছে। সারাদেশে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নেতাকর্মীদের নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তাদের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি নেতার ছেলে বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া শেষে দেশে ফিরে এসে নিজ এলাকায় সমাজসেবা করতে গেলেও তার ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

রিজভী বলেন, বিশে^র দেশগুলোর গণতন্ত্রের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। বর্তমানে বাংলাদেশ পূর্ণ গণতন্ত্র বা ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের অবস্থানেও নেই। বাংলাদেশের অবস্থান স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোর সমপর্যায়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়Ñ বাংলাদেশে নির্বাচনে বেশ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনে সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। বিরোধী দল ও প্রার্থীর ওপর সরকারি চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চেয়েও বেশি খারাপ। বাংলাদেশে বর্তমানে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। আইনের শাসন খুবই দুর্বল, সিভিল সোসাইটি দুর্বল, সাংবাদিকরা সবসময় হয়রানি ও চাপের মুখে থাকেন এবং বিচারব্যবস্থাও স্বাধীন নয়। ইআইইউ রিপোর্ট প্রকাশের পর সরকারের কিছু আজ্ঞাবাহী বুদ্ধিজীবী অবান্তর কথাবার্তা বলছেন। তারা বলেছেন- গণতান্ত্রিক ধাপে বাংলাদেশ এগিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অবস্থান তলানিরও নিচে অতলে নিমজ্জিত। তিনি বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাজানো ডিজাইনে ভোট লোপাটের মহাধুমধাম এখন চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে। মহাভোজ উৎসবের মহাসমারোহ চলছে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশ স্টেশনগুলোয়। এভাবে অন্য বাহিনীর ইউনিটেও চলছে ভোজের মচ্ছব। যে দল ভোটে বিজয়ী হয়, সাধারণত তাদের কর্মীরাই উৎসব, ভোজ ইত্যাদিতে মেতে থাকে; কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি রাজনৈতিক দলের তথাকথিত বিজয়ে উৎসব উদযাপন করে। এটা শুধু নজিরবিহীন ও হাস্যকরই নয়, হতবাক করা বিস্ময়ও বটে। এটি গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে তামাশার বিকৃত প্রকাশ। সুতরাং এটা আরও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলোÑ গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ও ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতিতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখন গণতন্ত্রের লাশের ওপর মহাভোজের আয়োজন করেছে। এসব ঘটনায় আবার প্রমাণিত হয়, দেশ চলবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা একতরফা নির্বাচনের সংস্কৃতিতে এবং শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়েই দেশের নিয়ন্ত্রণ রাখবেন।

গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপ ও পুনর্নির্বাচন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের দাবি হাস্যকর। এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তা হলে আমি বলতে চাই, শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন কি খুবই সম্মানজনক হয়েছে?

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে