মোটরসাইকেলে ‘টুপি’ নিরাপত্তা

  রেজাউল রেজা

১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে হেলমেটের ব্যবহার বেড়েছে অনেক। তবে এর মধ্যেও রয়ে গেছে ফাঁকি। কারণ অধিকাংশ মোটরসাইকেলেই হেলমেটের নামে যা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো আসলে এক ধরনের প্লাস্টিক ‘ক্যাপ’ বা টুপি।

বিশেষ করে মোটরবাইক চালকরা নিজেরা হেলমেট ব্যবহার করলেও পেছনের যাত্রীদের পরাচ্ছেন এই প্লাস্টিক ক্যাপ। অনেকে তো আবার হেলমেট হিসেবে ব্যবহার করছেন কনস্ট্রাকশন সাইটে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের সেফটি ক্যাপ। সড়কে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যার কার্যকারিতা প্রায় শূন্য। তার পরও শুধু ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা এড়াতেই বাজারে চলছে এসব ক্যাপ কেনার হিড়িক।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, দেশের ভেতরেই তৈরি হওয়া এসব ক্যাপের কোনো অনুমোদন নেই। বাংলামোটরের জুবায়ের মটরসের ব্যবসায়ী বিলাল হোসেনও জানান, ‘ফুল ফেইজ’ ও ‘হাফ’ হেলমেট নয় বরং বাজারে বর্তমানে ‘ক্যাপ’ আইটেমের বিক্রি বেড়েছে। তাদের দোকানে দৈনিক ২০ থেকে ৩০টি ক্যাপ এখন বিক্রি হচ্ছে। মাত্র দুশ থেকে পাঁচশ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে এসব ক্যাপ।

বংশালের মোটরবাইক সামগ্রীর দোকানগুলোতে ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র। থ্রি স্টার বাইকশপ নামে একটি দোকানের মালিক রুহুল হাওলাদার বলেন, গ্লাডিয়ার, আইবিকে ও এসটিএম ব্রান্ডগুলোর মতো সাধারণ মানের হেলমেটের দাম দেড় থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। চালকরা নিজেদের জন্য এগুলো কিনলেও পেছনের যাত্রীর জন্য কম দামের ক্যাপটাই কেনেন বেশি।

এদিকে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল রাইড সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের রাইডারদের বিনামূল্যে হেলমেট সরবরাহ করছে। তবে সেগুলোও ক্যাপ ছাড়া আর কিছু নয়। প্লাস্টিকের তৈরি এসব ক্যাপে যেমন মাথা ও মুখের জন্য কোনো সুরক্ষা থাকে না, তেমনি এগুলো মোটেও ‘শক প্রুফ’ নয়। অনেকগুলোর ভেতরের দিকে থাকে না ফাইবার কিংবা ফোমের আবরণ। ফলে এসব ক্যাপ পরা, না পরা সমান বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

দুর্ঘটনার সময় এ ধরনের প্লাস্টিকের ক্যাপ ঝুঁকির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মিজানুর রহমান। তার মতে, হেলমেটের কাজ ক্যাপ দিয়ে সম্ভব নয়। দুর্ঘটনার সময় এগুলো ভেঙে যাবে খুব সহজেই। বরং শুধু ভালো একটি হেলমেটের ব্যবহার মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর ঝুঁকি ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিয়ে দেয়।

বিষয়টি নিয়ে মোটরসাইকেলের রাইড সেবা প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’-এর জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা শেখ নাফিউল ইসলাম দাবি করেন, তাদের সেবাগ্রহীতারা যাতে নিরাপদ অনুভব করেন, সেজন্যই রাইডারদের হেলমেট দেওয়া হচ্ছে। তবে হেলমেটের বদলে প্লাস্টিক ক্যাপ কেন সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তা কতখানি নিরাপত্তা দেবে এমন প্রশ্নের কোনো কার্যকরী জবাব দিতে পারেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে মগবাজার মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শামীম হোসেন বলেন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ট্রাফিক আইনে দ-নীয় অপরাধ। এ রকম কাউকে পেলে আমরা মামলা দিচ্ছি। তবে কোনটা হেলমেট আর কোনটা হেলমেট নয়, তা যাচাইয়ের ক্ষমতা আমাদের নেই। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনাও আসেনি। তাই মাথায় হেলমেট জাতীয় কিছু থাকলে আমরা মোটরসাইকেল চালকদের আটকাচ্ছি না।

দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মিজানুর বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের অনুমোদনবিহীন হেলমেট কোথায় তৈরি বা কীভাবে বাজারজাত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি করা। একই সঙ্গে চালকদেরও হেলমেটের গুণগত মান সম্পর্কে সচেতন করতে ট্রাফিক পুলিশদের প্রচার চালাতে হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে