কাস্টমসের দেরিতে মাসুল গ্রাহকের

  তাওহীদুল ইসলাম

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বেশ কিছুদিন মালামাল খালাস বন্ধ ছিল। এতে আটকে থাকা পণ্যের জন্য অতিরিক্ত ড্যামারেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। একদিকে মালামাল তুলতে না পারার ভোগান্তির পাশাপাশি তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত মাসুল। ফলে বিমানবন্দরের গোডাউন চার্জের এই জটিলতায় দুই দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা।

সূত্র জানায়, অতিরিক্ত এ চার্জ মওকুফের জন্য গত বছরের ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি আবেদন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতস্থ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ। দীর্ঘ এক বছর এ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে চলছে ফাইল চালাচালি। প্রথমদিকে চার্জ মওকুফের ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় হলেও এখন আর তাতে রাজি নয় বেবিচক। ফলে এসব মাল বিমানবন্দরের গোডাউনে আটকা পড়ে আছে এখনো। গ্রাহকরা সেগুলো তুলতে পারছে না। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গোডাউন ভাড়া এবং ভ্যাট।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের শেষ দিকে কাস্টমসের জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন প্রবাসীদের পাঠানো মালামাল খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে খালাসের নির্দেশনা আসে। কিন্তু কার্গো অয়্যারহাউসে এসব মালামাল জমা থাকার কারণে অতিরিক্ত অয়্যারহাউস ড্যামারেজ ধরা হয়। প্রবাসীদের স্বল্প আয় বিবেচনায় নিয়মিত চার্জ প্রদানপূর্বক অতিরিক্ত অয়্যারহাউস চার্জ মওকুফের অনুরোধ এলেও বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। ফাইল চালাচালিতে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বিষয়ে মতামত চেয়ে গত বছরের ১০ এপ্রিল প্রথমে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়। এর জবাবে ৪ মে বেবিচক জানায়, ভবিষ্যতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মালমাল খালাসের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দেরির প্রবণতা বেড়ে যাওয়া এবং বিমানবন্দরের গুদামের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় আরোপিত চার্জ মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এই খালাসের দেরিজনিত কারণ জানতে চেয়ে ২৬ মে এনবিআরকে চিঠি দেয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এর কয়েক দিন পর অর্থাৎ গত ৮ জুন প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ ১ম মাসের গুদাম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল খালাসের অনুমতি চেয়ে বিমানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করে। এবার দ্বিতীয় মতামত হিসেবে বেবিচক গত ২৩ আগস্ট জানায়, প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের ৩৮টি এয়ারওয়ে বিলের তালিকানুযায়ী ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত গুদাম ভাড়া ১ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৫ টাকা এবং ১ম মাসের (৩০ দিনের) গুদাম ভাড়া ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৬ টাকা। প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের ৮ জুন তারিখের আবেদনের ভিত্তিতে ১ম মাসের গুদাম ভাড়া প্রদানপূর্বক মাল খালাসের অনুমতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানতে অনুরোধ করে বেবিচক।

এদিকে, বিমান মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাবে এনবিআর ২৭ অক্টোবর জানিয়েছে, যে সব ব্যাগেজ/পণ্য চালান বিধিমালাবহির্ভূত সেগুলোই কেবল খালাস হয়নি।

অন্যদিকে বেবিচক থেকে গত ১৩ নভেম্বর তৃতীয় মতামতে জানিয়েছে, খালাসের পর অবশিষ্ট প্রবাসীদের পণ্য চালান গুদামে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই গুদাম ভাড়া বা ড্যামারেজ চার্জ ও সরকারি ভ্যাটের পরিমাণ বাড়ছে। প্রবাসীদের অবশিষ্ট মালামালের ১৫ নভেম্বর থেকে গুদাম ভাড়া ও ভ্যাটসহ চার্জ ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া এসব মালমাল গোডাউনের জায়গা নষ্ট করছে, তাই দ্রুত এর নিষ্পত্তি দরকার। আর গুদাম ভাড়া মওকুফের বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য নজির হিসেবে যাতে ব্যবহার না হয় তাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ অবস্থায় অর্থ চার্জ মওকুফের ব্যাপারে এখন অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ-সংক্রান্ত নথিতে বলা হয়েছেÑ কর, শুল্ক, ফি আরোপ সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকারি প্রাপ্তির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিমান মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

বিমানবন্দরের গোডাউন চার্জ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে