কর্ণফুলি টানেল নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ শুরু

  আব্দুল্লাহ কাফি

১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে কর্ণফুলি টানেল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রকল্প অনুযায়ী চট্টগ্রাম শহরের নেভি কলেজের কাছ থেকে টানেলের প্রবেশপথ শুরু হবে এবং বাহির হওয়ার পথ হবে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার কাছে। এর মাঝে কর্ণফুলি নদী। এই টানেল নদীর দুই তীরকে একই সূত্রে গাঁথবে। নদীর দুই তীরেই গড়ে উঠবে শহর।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, এ টানেল নির্মিত হলে কেবল চট্টগ্রাম নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির চেহারাই পাল্টে যাবে। বিকশিত হবে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কার্যক্রম। কমবে যানজট, উপকৃত হবে নদীর দুই তীরের মানুষ।

সূত্র জানায়, চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও কিছু জটিলতায় চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণ পেতে এক বছর বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এ কারণে প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আরও কিছু সময় বেশি লাগতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে দুই লেনের দুটি টিউবের মাধ্যমে চার লেনের টানেল নির্মিত হবে। এ টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ হাজার ৫ মিটার। আর পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৯ হাজার ২৬৬ মিটার। ফাই-ওভারের দৈর্ঘ্য হবে ৯২০ মিটার। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৭০ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের ঋণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। চীনের সঙ্গে সরকার টু সরকার বা জি টু জি ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

কর্ণফুলি টানেল প্রকল্পে গত অর্থবছরে ২০২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অর্থছাড় হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ২০১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অনুকূলে। ওই অর্থ পেয়ে জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পের পশ্চিম প্রান্তে বন্দর থানাধীন দক্ষিণ পতেঙ্গা মৌজার ৭৭.০৭১ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের সার্ভিস এরিয়ার জন্য ৮৫.৮৯ একর জমি সেতু কর্তৃপক্ষের অনুকূলে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য ১১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল প্রকল্পের নির্মাণকাজের পরামর্শক হিসেবে দেশি-বিদেশি ছয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূল পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ডেনমার্কের সিওডব্লিউআই। সহযোগী হিসেবে থাকবে ওভিই-এআরইউপি অ্যান্ড পার্টনার হংকং লিমিটেড এবং বাংলাদেশের তিন প্রতিষ্ঠান এসিই কনসালট্যান্ট লিমিটেড, ভেলেপমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড ও স্ট্রাটেজিক কনসালটিং কোম্পানি লিমিটেড।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে এই প্রকল্পের জন্য একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই দিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিন পিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে কর্ণফুলি টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার কবির আমাদের সময়কে জানান, কোনো প্রকল্প শুরু হলে শেষ হতে কিছুটা সময় লাগে। নানা উপকরণ সংগ্রহ করতে কিছু দেরিও হয়। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ কিছটা বাড়ে। এ ধরনের টানেল বাংলাদেশে এই প্রথম। অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন আছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি শুরু হতে দেরি হয়ে গেছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে এক বছর সময় লাগছে। এ কারণে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। তবে বাংলাদেশে এমন একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে এটাই বড় কথা। কাজ শুরু হয়েছে, শেষও হবে।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরে নিরবচ্ছিন্ন ও যুগোপযোগী সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান সড়কব্যবস্থার আধুনিকায়ন, এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, কর্ণফুলি নদীর পূর্ব তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরের সঙ্গে ডাউন টাউনকে যুক্ত করা এবং উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিতকরণ, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিকরণ এবং প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দরের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিতকরণ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে নতুন একটি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

 

"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে