চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ভারী যান চলাচল শুরু

  হামিদ উল্লাহ, কাপ্তাই থেকে ফিরে

১৮ জুলাই ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ১২০ জনের মৃত্যুর এক মাসেরও বেশি সময় পর গতকাল সোমবার থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রকৌশলীরা এ সড়কের ভাঙা অংশ মেরামতের পর সকাল থেকে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করে। এর আগে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত তিন চাকার সিএনজি অটোরিকশা ও মিনিবাস চলাচল করতে পারত।

সওজের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, আমরা আজ (সোমবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়ক ভারী যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এতে কাপ্তাই অঞ্চলে আটকে থাকা বাঁশ ও গাছ শহরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কাপ্তাই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভারী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পর পাঁচ টন ওজনের মালামাল বহনে সক্ষম ট্রাকগুলো কাপ্তাই থেকে গাছ ও বাঁশ নিয়ে শহরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তবে যাত্রীবাহী বাসগুলো কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সরেজমিন কাপ্তাই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চন্দ্রঘোনা লিচু বাগান থেকে কাপ্তাইয়ের নতুনবাজার পর্যন্ত অন্তত ছয়টি স্থানে এখনো সওজের মেরামতকাজ চলছে। এর মধ্যে মিথিঙ্গাছড়ি, চিৎমরমঘাট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ও নতুন বাজার এলাকায় সড়কের পাশে গাছের বড় বড় গুঁড়ি গেড়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দেখা যায় সওজের লোকজনকে।

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হলেও রাঙামাটির সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কটি এখনো ভারী যান চলছে না। এটি মেরামতের কাজ করছে সওজ ও সেনাবাহিনী। তবে রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের মতো যানবাহন চলাচল করছে। এসব গাড়ি ব্যবহার করে চলাচল করতে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে যাত্রীদের।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, পণ্যবাহী বড় গাড়ি চলাচল করতে না পারায় কাপ্তাই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা খুবই লোকসানে পড়েছেন। এখানে উৎপাদিত বাঁশ ফেটে যাওয়ার আগেই শহরে নিয়ে বিক্রি করে দিতে হয়। কিন্তু গত এক মাস কোনো বাঁশ নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো ফেটে গেছে। আর ফাটা বাঁশের কোনো চাহিদা নেই। আগামী ১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু হবে। তখন এখান থেকে দেশের অন্য এলাকায় মাছ সরবরাহও শুরু হবে। ফলে রাঙামাটির মানুষের জন্য সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়া খুবই জরুরি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাঙামাটি অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হতে আরও চার সপ্তাহ লাগবে। আমরা রাঙামাটির সাপছড়ি এলাকায় দেবে যাওয়া সড়কের জায়গায় একটি বেইলি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এটি নির্মাণকাজ শেষ হলেই সব ধরনের গাড়ি চলাচলে আর বাধা থাকবে না। এ ছাড়া রাঙামাটি সড়কের ১১৩ জায়গায় ভেঙে যাওয়া স্থান মেরামত করতে সরকারের কাছে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা চেয়েছি। এ টাকা পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যানবাহন চলাচলের উপযোগী করেছি। গত রবিবার বিকাল থেকে ওই সড়ক দিয়ে হালকা যান চলাচল শুরু হয়েছে।

গত ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে রাঙামাটিতে ব্যাপক ভূমিধস হয়। এতে ১২০ জন পাহাড়ধসে মারা যান। ভূমিধসের কারণে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার এক সপ্তাহ পর গত ২০ জুন থেকে রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে যাত্রী কিংবা পণ্যবাহী বড় গাড়ি এখনো চলাচল করতে পারছে এ সড়ক দিয়ে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে