হিলির মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার ২৩ বছর

প্রকাশ করা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন

  মিজানুর রহমান মিজান, হিলি

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ১৩ জানুয়ারি, দিনাজপুরের হিলি ট্রেন দুর্ঘটনার ২৩ বছর পার হচ্ছে। ১৯৯৫ সালের এই দিনে হিলি রেলওয়ে স্টেশনে ঘটেছিল মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা। সেদিনের কথা মনে হলে আজও গা শিউরে উঠে এলাকাবাসীর। ওই দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজও প্রকাশ করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাহিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম ও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই দিন রাত সাড়ে ৯টায় ক্রসিংয়ের উদ্দেশে স্টেশনের ১নং লাইনে দাঁড়িয়েছিল গোয়ালন্দ থেকে পার্বতীপুরগামী ৫১১নং লোকাল ট্রেনটি। কিন্তু দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের কর্র্তব্য অবহেলার কারণে সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ৫৪২নং আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটিও ঢুকে পড়ে একই লাইনে। এতে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। বিকট শব্দে ইঞ্জিনসহ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় লোকাল ট্রেনটির দুটি বগি। দুমড়ে-মুচড়ে যায় ট্রেনটি। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। প্রথমদিকে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরে উদ্ধার কাজে অংশ নেয় স্থানীয় রেলওয়ে একতা ক্লাবের সদস্য, এলাকাবাসীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। দুর্ঘটনায় বেসরকারি হিসেবে শতাধিক যাত্রী নিহত হলেও সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ঘোষণা করা হয় ২৭ জন। ওই দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করেন অনেকে। পরদিন ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছুটে আসেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে। নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও প্রকাশ করা হয়নি সেই কমিটির প্রতিবেদন। এভাবেই কেটে গেল ২৩ বছর।

রেলওয়ে একতা ক্লাবের সভাপতি আমজাদ হোসেন খান জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রেলওয়ে একতা ক্লাব হিলিতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ ও রুহের মাগফিরাত কামনায় কালো ব্যাজ ধারণসহ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে