নাটোর-৪ আসনে আধিপত্য বিস্তারের মহড়া

  গুরুদাসপুর প্রতিনিধি

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আধিপত্য বিস্তারের মহড়া শুরু হয়েছে। বুধবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলীকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দাবি জানিয়েছেন দলটির তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর চলমান রাজনৈতিক বিরোধ আবারও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

বুধবারের ওই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ আবদুল বারী। গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। একই মাঠে ১৭ জানয়ারি পাল্টা জনসভা ডেকেছেন সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস। এসব ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। বুধবারের জনসভায় মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর পক্ষে উপজেলার ছয় ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ সব ওয়ার্ড এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে জনসভাকে প্রকৃতপক্ষে আধিপত্য বিস্তারের মহড়া হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল।

জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. সাজেদুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাধীনতা সরকারি চাকরিজীবী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান ও মহাসচিব মো. এমদাদুল হোসেন, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী।

বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দস জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। এ বিভেদের প্রভাব শুধু গুরুদাসপুর উপজেলাতেই নয়, জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক অভিজ্ঞরা।

সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকরা মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর পক্ষ অবলম্বন করেছেন।

বক্তারা দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য দাবি তোলেন। একই সঙ্গে মেয়র শাহনেওয়াজ আলীকে দলীয় মনোনয়নের দাবি জানান। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাংসদবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস মুঠোফোনে বলেন, দলের নেতাকর্মীরাই ভোট দিয়ে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। জেলা সভাপতি ও সরকারদলীয় সাংসদ হিসেবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় সংগঠন চালাচ্ছি। কিন্তু দলের কতিপয় নেতা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গারে মেতে উঠেছেন। তবে সময় হলে জনগণই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে