মেহেন্দীগঞ্জের ৬ নৌটার্মিনালে নেই পন্টুন ও জেটি

  মেহেন্দীগঞ্জ প্রতিনিধি

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে ৬টি নৌ-টার্মিনাল ঘাটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। নৌ-টার্মিনালে পন্টুন ও জেটি না থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হয়ে লঞ্চে উঠছেন নৌকা ও ট্রলারে চড়ে কিংবা সাঁতরে। কোথাও আবার লঞ্চ ভেড়ানো হচ্ছে চরে বা নদীতীরে। ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে ওঠায় যাত্রী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

বিআইডব্লিউটিএ টার্মিনালে পন্টুন ও জেটি সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, দাপ্তরিক জটিলতায় সহজেই এ সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। মেহেন্দীগঞ্জে ৬টি নৌ-টার্মিনালের মধ্যে রুকুন্দি চরের হাট, লালখারাবাদ, পোদ্দাতলী টার্মিনালে পন্টুন নেই। যাত্রীদের লঞ্চ থেকে কাদাপানির মধ্যে বা নদীর তীরে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মেহেন্দীগঞ্জের সবচেয়ে বড় পাতারহাট স্টিমারঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। এ টার্মিনাল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মাছ কাটা নদীতে ট্রলারে ও নৌকায় করে যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে হয়।

বরিশাল-মেহেন্দীগঞ্জ নৌ-রুটের লঞ্চ সঞ্চিতার চালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এক মাস ধরে ঘাটে যাওয়া যাচ্ছে না। ছয় মাস ধরেই এ কষ্ট পোহাতে হয়। এখানে প্রায় ১২টি লঞ্চ চলে। মালামাল নিয়ে টার্মিনাল পর্যন্ত লঞ্চ নেওয়া যায় না। এ জন্য যাত্রীদের সুবিধার্থে তার মালিক দুটি ট্রলার ভাড়া করে মাঝ নদী থেকে যাত্রীদের পার করছেন। যদিও এই উপায়ে যাত্রীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন। তিনি এ জন্য বন্দর এলাকায় দ্রুত ড্রেজিং করার তাগিদ দিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তার আওতাধীন বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, মাদারীপুর, ঝালকাঠী জেলায় শতাধিক নৌ-টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি টার্মিনালে পন্টুন নেই। জেটিম নেই ৩০টি ঘাটে। তিনি আরও বলেন, মেহেন্দীগঞ্জের পাতারহাট স্টিমারঘাট টার্মিনালে জেটি না থাকায় যাত্রীদের ট্রলারে করে লঞ্চে উঠতে হয়। স্থানীয় এমপি এ বিষয়ে তাকে ফোন দিয়ে ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে সেখানে একটি জেটি স্থাপনের কথা বলবেন।

বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, মেহেন্দীগঞ্জের পাতারহাটসহ আশপাশের ওই পথে ড্রেজিংয়ের জন্য একটি অত্যাধুনিক ড্রেজার আনা হয়েছে। অচিরেই নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, বন্দরে লঞ্চ ভেড়াতে না পারলে তাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তিনি যাত্রীদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাবেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে