• অারও

ফুলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলা আজ

  আব্দুস ছাত্তার, ফুলবাড়িয়া

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিছু খেলা গ্রামাঞ্চলের মানুষ ধরে রেখেছে যুগ যুগ ধরে। সে রকমই একটি খেলা ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি। দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হুমগুটি খেলা আজ অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুরের বড়ইআটায় তালুক পরগনার সীমানায়। খেলা ঘিরে এই গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

পৌষ মাসের শেষ দিনকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় পহুরা। প্রতিবছর পৌষসংক্রান্তির শেষ বিকালে এ খেলার আয়োজন করা হয় একই মাঠে। এ বছর খেলাস্থল বড়ইআটায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় উৎসবে ভাটা পড়ার শঙ্কা করছেন খেলোয়াড়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পিতলের তৈরি এক মণ ওজনের গুটি করায়ত্ত করে নিজ গ্রামে নিয়ে গুম করা পর্যন্ত চলে এই খেলা। বিকাল ৪টার দিকে খেলা শুরু হয়। সকাল থেকে ফুলবাড়িয়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল ও মুক্তাগাছা উপজেলার লোকজন খেলা দেখতে আসেন বড়ইআটা মাঠে। খেলা শুরুর আগে উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে লক্ষ্মীপুরের বড়ইআটা পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

হুমগুটি খেলার পেছনে একটি ইতিহাস আছে। সেটি এ রকমÑ মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্তের সঙ্গে ত্রিশালের বৈলরের হেমচন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতিকাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে, আর পরগনার প্রতিকাঠা জমির পরিমাপ ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে। একই জমিদারের ভূখ-ে দুই নীতির প্রতিবাদে ঝড় ওঠে। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ইআটা এলাকায় (যেখানে শুরু তালুক পরগনার সীমানা) এই গুটি খেলার আয়োজন করা হয়।

গুটি খেলার শর্ত ছিল, গুটিটি যেদিকে যাবে, তা হবে তালুক; পরাজিত অংশের নাম হবে পরগনা। জমিদার আমলের এই গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হয়। আজও সেই তালুক পরগনার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এই গুটি খেলা চলছে। প্রতিবছর আমন ধান কাটা শেষে ও বোরো ধান আবাদের আগে প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার জন্য জমিদারদের এই পাতানো খেলা চলছে বছরের পর বছর ধরে।

হুমগুটি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকের উপস্থিতিতে খেলা উদ্বোধন করা হবে। একমণ ওজনের পিতলের গুটি ঢাকঢোলের তালে তালে নেচে গেয়ে তালুক পরগনার সীমানায় নিয়ে আসে এলাকাবাসী। এ খেলায় থাকে না কোনো রেফারি। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনো বাহিনীর প্রয়োজন হয় না। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে খেলা। কোনো কোনো বছর পরদিন পর্যন্ত খেলা চলার রেকর্ডও আছে। একেক এলাকার একেকটি নিশানা থাকে। ওই নিশানা দেখে বোঝা যায়, কারা কোন পক্ষের লোক। গুটিটি কোন দিকে যাচ্ছে, তা মূলত চিহ্নিত করা হয় নিশানা দেখেই। গুটি নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় খেলায়। এভাবে গুটিটি গুম না হওয়া পর্যন্ত চলে এ খেলা।

হুমগুটি উন্নয়ন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. চঞ্চল মাহমুদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও খেলা চলবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে