• অারও

ময়মনসিংহে অনুমোদনবিহীন ৬০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

  নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাদানের নামে মোটা অঙ্কের টাকায় ভাড়াবাড়িতে গড়ে ওঠা অবৈধ বাণিজ্যিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা। চটকদার ও মনভোলানো বিজ্ঞাপন এবং ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে ওই সব বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। অষ্টম বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে সরকারি নিয়ম না মেনেই গড়ে উঠেছে এ রকম ৬০টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সদর উপজেলার ৫৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এক বিবৃতিতে এসব বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। প্রধান শিকরা জানিয়েছেন, বিনামূল্যে বিতরণের সরকার প্রদত্ত পাঠ্যবই ভুঁইফোড় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হবে না এবং কেউ বই সরবরাহ করলে তা প্রতিহত করা হবে। তা ছাড়া ওইসব অবৈধ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা হবে না বলে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছেন ৫৫ প্রধান শিক্ষক।

শহরের রামবাবু রোডের নতুন বাজারে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আফরোজউদ্দিন খান নিজের নামে গড়ে তুলেছেন ‘আফরোজ খান মডেল স্কুল’। তিনি জানান, তিনি প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়া নিয়ে দুটি ভবনে নিজের নামে স্কুল গড়ে তুলেছেন। এই স্কুলের নামে শম্ভুগঞ্জের কাছে চর হরিপুর মৌজায় ক্রয় করার উদ্দেশ্যে ৩১ শতাংশ জমির বায়নাপত্র করা হয়েছে। এমপিওভুক্তির জন্য কোনো আবেদন করবেন না এই মর্মে অঙ্গীকার করে ২০১৫ সালে পাঠদানের অনুমতি চেয়ে ২০১৬ সালে শুরু করেন স্কুলটি। কিন্তু সম্প্রতি পাঠদানের অনুমতির জন্য সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপির একটি ডিও লেটার শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এ স্কুলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৫৫ জন শিক্ষক রয়েছে। স্কুলের প্রথম ব্যাচের ২৯ জন শিক্ষার্থী মহিলা সমিতি উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন করে ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মহিলা সমিতি উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের বইয়ের চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে সরকারপ্রাপ্ত বই ইতোমধ্যেই তারা বিতরণ করেছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক আফরোজউদ্দিন খান। এ স্কুলে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ফি নেওয়া হচ্ছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। প্রতি মাসে বেতন ৮ থেকে ৯শ টাকা। এক প্রশ্নের জবাবে আফরোজউদ্দিন খান জানান, এ স্কুলে ভালোমানের শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ভালো শিক্ষা দিচ্ছেন বলেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুমোদনহীন অন্যান্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সদর হলিসোল কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুল, শাহীন স্কুল, মেট্রোপলিটন মডেল স্কুল, জাস একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বয়েজ মডেল স্কুল, মোমেনশাহী আদর্শ বিদ্যালয়, ড্যাফোডিল মডেল স্কুল, প্রেসিডেন্সি মডেল স্কুল, এইম স্কুল, ইডেন গার্লস স্কুল, সেন্ট্রাল স্কুল ইত্যাদি।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল মোতালেব জানান, অবৈধ স্কুলের ব্যাপারে তিনি কোনো অভিযোগ হাতে পাননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালক আবদুল খালেককে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ময়মনসিংহে এগুলো দেখভালের জন্য আমার ওপরে আরও দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

ময়মনসিংহের এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে সম্প্রতি ব্যাপকহারে শিা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে উঠছে অবৈধ নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই নিজস্ব জমি ও ক্যাম্পাস নেই, সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক নিয়োগ নেই। কী করে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে তা বোধগম্য নয়। এসব শিা প্রতিষ্ঠানের শিার্থীদের জেএসসি এবং এসএসসি পরীায় অংশগ্রহণে শিা বোর্ডের কোনো অনুমতি নেই। এসব েেত্র চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি। শিা বিভাগের কর্মকর্তারা এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে কার্যকর পদপে নিচ্ছেন না বলেই আজ এমন অবৈধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা চলছে বলে জানান প্রধান শিক্ষকরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে