বাউফলে ছাত্রলীগ নেতার কুপনবাণিজ্য

  বাউফল প্রতিনিধি

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক ছাত্রলীগ নেতার (একাংশের) বিরুদ্ধে কুপন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে কুপন ছাপিয়ে মাইকিং করে ২০ টাকা করে বিক্রি করছেন ওই ছাত্রলীগ নেতা। যারা কুপন কিনতে চাননি তাদেরকেও বাধ্য করা হয়েছে। ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম মো. মামুন (২৫)। তিনি নিজেকে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দাবি করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ রুবেল ও নিশাত পক্ষের নেতা। যে কমিটি অনুমোদিত নয়। গতকাল বুধবার বিকাল তিনটায় মাধবপুর বাজারে ড্র দেওয়ার কথা কুপনে উল্লেখ থাকলেও সাড়ে চারটা পর্যন্ত ড্র হয়নি।

গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে উপজেলার বগা-মাধবপুর সড়কে মাইকিং করে কুপন বিক্রি করতে দেখা যায়। মাইকিংয়ের দায়িত্বে থাকা তরুণ বলেন, মামুন ভাইয়ের নির্দেশে মাইকিং করে ২০ টাকা করে কুপন বিক্রি করছেন। কুপনে প্রথম পুরস্কার এলইডি টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার এনড্রয়েট মোবাইল সেট, তৃতীয় পুরস্কার রাইসকুকারসহ ১০টি পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত পাঁচদিন ধরে মাইকিং করে কুপন বিক্রি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে তিন হাজার কুপন বিক্রি করা হয়েছে। এতে তারা ক্ষুব্ধ হলেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, তাকে জোরপূর্বক পাঁচটি কুপন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে একশ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এমন অভিযোগ মাধবপুর বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরও। তিনি বলেন, তাকেও দুটি কুপন কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেননি।

ছাত্রলীগ নেতা মো. মামুন জোরপূর্বক কুপন বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কুপন ছাপিয়েছি। প্রতিটি কুপন ২০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা এবং কী পরিমাণ কুপন ছাপানো ও বিক্রি করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রাহাত জামশেদ বলেন, মামুন নামে আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগে তাদের কোনো নেতা নেই।

ছাত্রলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির নিশাত বলেন, মামুন তাদের কমিটির লোক হলেও সম্প্রতি তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, কাউকে কুপন ছাপিয়ে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে