বাঁধের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ

  বিন্দু তালুকদার, সুনামগঞ্জ

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বৃহৎ দেখার হাওরের সামান্য কিছু বোরো জমির ফসল রক্ষায় কোটি টাকা ব্যয়ে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হাওরে মূল বাঁধের ভেতরেই এ বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে দুই হাজার ৪৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে বাঁধ নির্মাণে ৯১ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাজ গ্রামের একপ্রান্ত অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এসব উপপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকার লোকজন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের সেবা চত্বরে গণশুনানিতে অংশ নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দেখার হাওরের উত্তর-পূর্ব তীরের দরিয়াবাজ গ্রামের কিছু লোকের বোরো জমির ধান রক্ষায় এসব উপপ্রকল্প তৈরি করা হয়। প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রয়েছে।

ওই পাঁচটি পিআইসির একটির সভাপতি মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজুয়ান আলী রায়হান। তার দাবি, এ বাঁধের ভেতরে ২০০ একর জমি রয়েছে। বাঁধের ভেতরের অংশের জমি রক্ষায় এ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ইঞ্জিনিয়ার (এসও) দেখেই এ প্রকল্পগুলো নিয়েছেন। তাদের বিরোধীরা এখন নানা অভিযোগ করছে। যারা অভিযোগ করছেন এখানে তাদের কারোর জমি নেই। পাউবো এখানে এ প্রথম বাঁধ নির্মাণ করছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে স্থানীয় অনেকেরই অভিযোগ, এখানে অপ্রয়োজনীয় পাঁচটি উপপ্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে। কারণ এত অল্প জমির ধান রক্ষায় কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রয়োজন ছিল না।

মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, এ বাঁধের প্রয়োজন নেই, কারণ এ বাঁধের ভেতরে মাত্র ২০-৩০ একর জমি রয়েছে। এসব জমি বৃহত্তর দেখার হাওরেরই অংশ। দেখার হাওর রক্ষা হলে এই জমি এমনিতেই রক্ষা হবে। কারণ এ অংশটুকু অনেক উপরে ও গ্রামের কাছের। এখানে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে লুটপাটের জন্য। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের বিষয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।

একই কথা বলেন বল্লভপুর গ্রামের মাওলানা নজরুল ইসলাম, খাগুড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ছলিমুল্লাহ ও মনির উদ্দিন এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আস্তমা গ্রামের হাসান মাহমুদ। তাদের মতে, শুধু ফায়দা লুটার জন্য এসব কাজ করা হচ্ছে। দেখার হাওরের এ অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল সিদ্দিকী বলেন, এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে এসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিছু মানুষ শুধু বিরোধিতার কারণে নানা অভিযোগের কথা বলছে। কিছু জমির ধান রক্ষায় কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছেÑ স্থানীয়দের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের অনেক স্থানেই এ ধরনের বাঁধ হচ্ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close