গাছে ঝুলছে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০০ সড়কবাতি

  নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার নন্দীগ্রাম প্রথম শ্রেণির পৌর শহরে জীবন্ত গাছ ও ডালপালা এবং মরা বাঁশের সঙ্গে ঝুলছে ৩০০ সড়কবাতি। এসব সড়কে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন যানবাহনসহ পৌর নাগরিকরা।

স্থানীয়দের দাবি, ওইসব বিদ্যুৎলাইন দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

নন্দীগ্রাম পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরে ১ হাজার ২০০টি সড়কবাতি আছে। এর মধ্যে ৩০০টি বাতিই ঝুলছে জীবন্ত গাছ ও ডালপালা এবং মরা বাঁশের খুঁটির সঙ্গে। তবে সড়কবাতির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে পৌরবাসী জানায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর শহরের বেলঘরিয়া সড়ক, মাঝগ্রাম, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, কলেজপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ইউক্যালিপটাস, কড়ই ও মরা গাছের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। চিকন তার ও গুনা দিয়ে সঞ্চালন লাইন টেনে এসব সড়কবাতি লাগানো হয়।

কলেজ শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আমরা কলেজে যাতায়াত করি। এভাবে জীবন্ত গাছ ও মরা গাছের খুঁটিতে বিদ্যুৎলাইন জুড়ে দেওয়ায় সামান্য বাতাস হলেই আমরা আশঙ্কায় থাকি কখন এসব ছিঁড়ে পড়ে!

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রাজু আহম্মেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুতের লাইনগুলো এ অবস্থায় চলছে।

কলেজপাড়ার আব্দুল মমিন বলেন, এটা তো বিদ্যুৎলাইন নয়, যেন একেকটা মরণফাঁদ। কারণ যে কোনো সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব গাছ ভেঙে যেতে পারে। তখন মানুষের মৃত্যু ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জীবন্ত গাছের সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা বিদ্যুৎপ্রবাহ আইন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালার পরিপন্থী। কারণ জীবন্ত গাছ এমনিতেই অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ পরিবাহী। আর বর্ষায় ভেজা গাছ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নন্দীগ্রাম এরিয়া অফিসের এজিএম রেজাউল করিম বলেন, এ রকম কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎলাইন থাকলে পৌরসভার মেয়রকে বলে তা অপসারণ করা হবে।

নন্দীগ্রাম পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, কিছু গাছে বিদ্যুৎলাইনের সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। তবে জিআই খাম্বা বসিয়ে ওইসব ঝুঁকিপূর্ণ সড়কবাতি সংস্কার করা হবে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে