ইসলামপুরের ৭৭ প্রকল্পে সরকারি নজরদারি নেই

  সাহিদুর রহমান, ইসলামপুর

১৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় জামালপুরের ইসলামপুরে দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন রাস্তা মেরামত প্রকল্পের কাজে সরকারি নজরদারি না থাকায় নানা অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্যানুযায়ী গত ২১ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে; কিন্তু সরেজমিনে ৬ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কাজ শুরুর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গতকাল রবিবার পর্যন্ত গাইবান্ধা ইউনিয়নের ৫৯ নং প্রকল্পের গঙ্গাপাড়া জাফরের বাড়ি থেকে সন্তোষের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতকাজে কোনো মাটি পড়েনি। ওই প্রকল্পের সভাপতি শাহেনা বেগম। তিনি জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন।

৫৮ নং প্রকল্পের পোড়ারচর গ্রামের তোফাজ্জলের বাড়ির উত্তর পাশ থেকে গোয়ালেরচর সীমানায় আনার উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের শ্রমিক থাকার কথা ৫০ জন; সেখানে গতকাল রবিবার কাজ করতে দেখা যায় মাত্র ৭ জনকে। অন্য শ্রমিকদের ব্যাপারে প্রকল্পের সভাপতি মোফাজ্জল জানান, বাকি সব শ্রমিক চেয়ারম্যানের। আর মাটি কেটে কী হবে, অফিসারদের ম্যানেজ করা আছে। তিনি আরও বলেন, ‘আর কেউতো মাটি কাটেনি। আমি সাত শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটলাম, তা-ইতো বেশি। যা বলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সব বলবেন। প্রায় একই ভাষায় কথা বলেন ইউনিয়নের অন্য ৮টি প্রকল্পের সভাপতিরা।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান জানান, তারা তো ঠিক কথা বলেছেন। জামালপুরের সব অফিসার, নেতা ও সাংবাদিক ম্যানেজ করা আছে।

এর আগে গত শনিবার চিনাডুলী ইউনিয়নে ১০ নং গিলাবাড়ী গ্রামের আহেজ উদ্দিনের বাড়ি থেকে লাঞ্জুর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতকাজে ৪৩ শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও সেখানেও কাজের অগ্রগতি নেই।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প সভাপতি মজনু ম-ল জানান, কাজ করে কী হবে, সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে বিল নিতে হয়। একই অবস্থা এই ইউনিয়নের অপর ৮টি প্রকল্পের। এ ব্যাপারে চিনাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান ইফতেখার আলম বাবুল জানান, সবাইকে ম্যানেজ করে বিল তুলতে হয়। তাই শ্রমিক কম দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একই অবস্থা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৭৭টি প্রকল্পের।

অভিযোগ রয়েছে, দলীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ভিআইপি শ্রমিকের কারণে প্রতিবছরই ইজিপিপি প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করে সরকারের সিংহভাগ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে চলে যায় উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তার পকেটে।

কর্মসৃজন কর্মসূচির এই বেহালের ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আজ (রবিবার) পর্যন্ত যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, সে প্রকল্পের শ্রমিকদের কোনো ভাতা দেওয়া হবে না। একই কথা বলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে