ফরিদপুরে যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা, লুটপাট

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন দিয়ে দুটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। এ সময় লুটপাট ও বাড়ির নারীদের লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বাদল হোসেনের সালথা বাজার এলাকার বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বেশকিছু দিন ধরে দুটি গ্রুপের উত্তেজনা চলছিল। সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির চৌধুরীর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেনের বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতে সাব্বির চৌধুরীর কয়েকশ সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বাদলের বাড়িতে। এ সময় হামলাকারীরা তিনটি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। দুটি দোকান ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের ঠেকাতে গেলে বাড়ির কয়েকজন নারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলাকারীরা দুটি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের ভূমিকার কারণে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সাব্বির চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র লোক বাড়িতে ওই হামলা চালায়।

সাব্বির চৌধুরী হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, কারা বাদলের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি কিংবা আমার লোকজন হামলার সঙ্গে জড়িত নই।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ ছেলে আয়মান আকবর বাবলু চৌধুরীর ঘনিষ্ট হচ্ছেন বাদল। অন্যদিকে উপনেতার ছোট ছেলে লাবু চৌধুরীর সমর্থক হচ্ছেন সাব্বির চৌধুরী। বাবলু চৌধুরী সংসদ উপনেতার এপিএস থাকাকালীন সাব্বির চৌধুরী কোনঠাসা অবস্থায় ছিলেন এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

সালথা থানার ওসি জানান, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে বাদল হোসেনের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে