ধর্ষণের দণ্ড ২০ হাজার টাকা!

  হবিগঞ্জ ও চুনারুঘাট প্রতিনিধি

১৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ মে ২০১৮, ০৮:৪০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আয়োজিত সালিশে অভিযুক্ত লম্পট উজ্জ্বল মিয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে ঘটনা ভুলে যেতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে লম্পট উজ্জ্বল পলাতক। আর গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে।

অভিযোগে জানা যায়, চুনারুঘাট পৌর এলাকার একটি আশ্রয়ণকেন্দ্রে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী। গত ৩ মে তাকে বাড়িতে একা রেখে বাবা-মা হাওরে ধান কাটার কাজে যান। এই সুযোগে উজ্জ্বল শিশুটিকে চেতনানাশক মিশ্রিত জুস খেতে দেয়। এতে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে সে তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন একই কায়দায় লম্পট শিশুটিকে আবার ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মা-বাবার কাছে ঘটনা খুলে বলে।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সালিশ বসান। সেখানে চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজল আহমেদ শিশুটির পরিবারকে ‘মামলা দিয়ে ফায়দা পাবে না’ অজুহাত দিয়ে সালিশে মিটমাট করার কথা বলেন এবং উজ্জ্বল মিয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে শিশুটির চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচি অফিসার অল্লিকা দাস ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে চিকিৎসা-সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজল আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে তিনি টাকা দিয়ে কোনো আপসরফা করেননি। তিনি বাদীর পক্ষে যত সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করে যাচ্ছেন। ধর্ষককে ধরতে পুলিশকেও সহযোগিতা করছেন।

চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভিকটিমের পিতা থানায় হাজির হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামি ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ১৭ মে (বৃহস্পতিবার) ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে।

চুনারুঘাট থানার ওসি কেএম আজমিরুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। শিশুটিকেও হাসপাতালে ভর্তি করেছে। অভিযুক্ত উজ্জ্বলকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে ২০ হাজার টাকার দফারফার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা তিনি স্থানীয়দের মুখ থেকে শুনেছে; কিন্তু সত্যতা পাননি।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে