গাজীপুরবাসীর দুঃখ রেলক্রসিং

  আবুল হাসান, গাজীপুর

১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০৯:০৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর নগরের যানজট এখন সবচেয়ে বড় নাগরিক সমস্যা। যানজটের প্রধানতম কারণ শহরের মাঝখানে থাকা লেভেল ক্রসিং। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত ও হাসপাতালে গমনকারী জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই যানজটে নাকাল হচ্ছে প্রতিদিন। সংকট নিরসনে প্রশাসন আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি ৪০ বছরেও।

জাইকা প্রজেক্টের আওতায় লেভেল ক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা থাকলে সেটি আলোর মুখ দেখেনি। তবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। খুব শিগগির এ সংকটের সমাধান হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল কিংবা স্কুল কলেজে প্রবেশ করতে গেলে লেভেলক্রসিংয়ের বাধা পার হতে হয় প্রতিদিন। নগরের প্রবেশমুখেই রেলগেট, যেখান দিয়ে দেশব্যাপী অন্তত ৬৫ জোড়া ট্রেন আসা-যাওয়া করে। আর একবার ওই ক্রসিংয়ে একটি ট্রেন আসা মানেই কম করে হলেও ২০ মিনিট অপেক্ষার ভোগান্তি। তার ওপর রেলগেটের দুপাশে সরু সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের ব্যাপক আধিক্য থাকায় দীর্ঘ সময়েও যানজটের পরিসমাপ্তি ঘটে না।

গাজীপুর জেলা গঠিত হওয়ার পর ১৯৮৬ সালে গাজীপুর পৌরসভা গঠিত হয়। এরপর ৪০ বছরেও সমস্যা সমাধানে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে উন্নীত হবার পরও রেলক্রসিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজট রয়েই গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেল ক্রসিং তাদের বড় সমস্যা। এটা মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। এ সমস্যা সমাধানে সরকারিভাবে এখানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাসের অভিযোগ, রেল আসার ২০-২৫ মিনিট আগে রেলক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখানে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থাকায় এমন অবস্থা হয়েছে যে, রোগী হাসপাতালে নেওয়ার পথে যানজটের কারণে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্য আমাদের এমপি, মন্ত্রী এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা নেবে এটা আমাদের দাবি।

গাজীপুর মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ বারী জানান, ৪০ বছর ধরে গাজীপুরবাসীর একটাই দুঃখ যে, এখানে রেলক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়নি। এখানে সব সময় তীব্র যানজট লেগে থাকে। চীনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো নদী, তেমন গাজীপুরের দুঃখ হচ্ছে জয়দেবপুরের রেল ক্রসিং। আমরা আশা করব, সরকার এখানে একটি ওভার পাস বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করবে।

দিনে বিভিন্ন রুটে আন্তঃনগর, কমিউটারসহ অন্তত ৬৫টি ট্রেন চলাচল করে জানিয়ে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মনিরুল ইসলাম বলেন, রেল গেটে ৪৪০ গজ দূরে থাকতে চালককে সিগন্যাল দেখতে হবে। এজন্য গাড়ি আসার ৫ মিনিট পর সিগন্যাল দিলেও রেলক্রসিংয়ের গেট ৫ মিনিট বন্ধ থাকে। লেভেল ক্রসিং বন্ধ এবং খুলতে অন্তত ১০ মিনিট প্রয়োজন হয়। ফলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। কেবল ফ্লাইভার নির্মাণই এই রেলক্রসিংয়ের যানজট লাঘব করতে পারে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে