৯ কালগুই গাজীপুর জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত

  গাজীপুর সদর প্রতিনিধি

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবীগঞ্জ এলাকার একটি জলাশয়ে থাকা বিপন্ন ৯টি রামগদি বা কালগুই (ডধঃবৎ গড়হরঃড়ৎ খরুধৎফ) উদ্ধার করে বুধবার রাতে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক নিগার সলতানা জানান, আবাসস্থল ধ্বংস বন্যপ্রাণীর বিলুপ্ত হওয়ার একটি মূল কারণ। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্রমেই কমছে। সাধারণত খুলনার কিছু বনাঞ্চলে রামগদির এ প্রজাতি দেখা মেলে। নবীগঞ্জের ওই জলাশয়টি ভরাট হয়ে যাওয়ায় অবাস্থল পরিবর্তনের চেষ্টা করতে গেলে কয়েকটি কালগুইকে এলাকাবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে। বিপন্নপ্রায় কালগুইগুলোর আবাসস্থল সংকটাপন্ন হওয়ার ওই তথ্য পেয়ে বাংলাদেশ বন বিভাগ এগুলোকে উদ্ধার করে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে গত দুই দিনে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, ঢাকার বিভাগীয় কর্মকর্তা জহির উদ্দিন আকনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিকসহ বন কর্মকর্তারা ৯টি কালো কালগুই (৪টি পুরুষ ও ৫টি স্ত্রী) উদ্ধার করে গাজীপুর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করেন। প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক গুইর ওজন ২৫ থেকে ৩০ কেজি এবং দৈর্ঘ্যে হয় ৬ থেকে ৭ ফুট।

এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, ওটঈঘ জবফ ষরংঃ ২০১৫ অনুযায়ী রামগদি বা কালগুই (ডধঃবৎ গড়হরঃড়ৎ খরুধৎফ) বাংলাদেশে প্রায় বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। আবাসস্থল ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে এদের সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে এরা সাসটেইন করলে গাজীপুরে এদের নতুন একটা পপুলেশন হবে। তিনি আরও জানান, রামগদিরা আবর্জনা-ময়লাসহ সর্বভুক প্রাণী। এরা বাসাবাড়ির ময়লা খেয়ে পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে। এরা ইঁদুর জাতীয় ক্ষতিকারক প্রাণী ও মুরগি, সাপসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। এরা পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রে (ইকোসিস্টেম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিকূল পরিবেশে এরা মানুষের সান্নিধ্যে চলে আসে এবং আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এদের কামড়ে ও লেজের আঘাতে মানুষের দেহে ক্ষত ও পচন দেখা দেয়।

ওই পুনর্বাসন কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ইন্টার্ন শিক্ষার্থী মইন মাহমুদ ও স্থানীয় একাত্তর মেম্বার সংগঠনের সদস্যরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে