পরমাণু যুগে বাংলাদেশ

  লুৎফর রহমান কাকন

৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর আর্থিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের সক্ষমতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৩০ নভেম্বর এক নতুন অধ্যায়ের শুরু করে এটি। প্রবেশ করে পরমাণু যুগে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে তাই এটি স্মরণীয় ঘটনা। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর ৩২তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গর্বিত দেশ।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আনুষ্ঠানিক কাজ ‘প্রথম কংক্রিট ঢালাই’-এর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

যদিও সর্বশেষ গত ৪ নভেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা ও নির্মাণকাজের লাইসেন্স প্রদান করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) আণবিক শক্তি কমিশনকে (বিএইসি)। ওই লাইসেন্সপ্রাপ্তির পর থেকেই সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশকে বিশ্ব পরমাণু ক্লাব বা বিশ্ব নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, লাইসেন্স পাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব পরমাণু ক্লাব’ (নিউক্লিয়ার নেশন)-এ যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। জাতীয় আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে এ প্রকল্প। স্বাধীনতার পর এমন কাজ হয়নি। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।

রাশিয়ার দেওয়া প্রকল্প ব্যয়ের ৯০ শতাংশ সরবরাহ ঋণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে রাশিয়ার উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক (থ্রি প্লাস জেনারেশন) ‘ভিভিইআর ১২০০’ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি চুল্লি স্থাপন করা হবে রূপপুরে। ২০২৩ সালে এর প্রথমটি এবং পরের বছর দ্বিতীয়টি চালু হওয়ার কথা। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দুই ইউনিটের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর্থিক বিবেচনায় এটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। মোট ব্যয়ের মধ্যে ঋণ হিসেবে রাশিয়া ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা দেবে বলে চুক্তি হয়েছে। রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নির্মাণকাজ করছে রাশিয়ার রোসাটম।

বর্তমানে পৃথিবীর ৩১টি দেশে ৪৫০টি পারমাণবিক বিদ্যুতের ইউনিট চলমান আছে। এগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশ ছাড়া আরও ৬০টি ইউনিট বিভিন্ন দেশে নির্মাণাধীন রয়েছে, যার সর্বমোট ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে